গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের নাশকতার দুই বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। নাশকতার ঘটনায় হওয়া ৩৩টির মধ্যে ৩১টি মামলায় আদালতে ইতিমধ্যে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দুটি মামলায় এখনো অভিযোগপত্র দেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা উপজেলার বামনডাঙ্গায় চার পুলিশকে হত্যা, থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার ঘটনা ঘটায়। সেসব ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় ৩৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে পুলিশ ১ হাজার ২২৪ জনকে অভিযুক্ত করে ৩১টি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫২০ জন।
পুলিশ দুটি মামলার অভিযোগপত্র দুই বছরেও আদালতে দাখিল করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম। তিনি বামনডাঙ্গার নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলাটি করেছিলেন। এ ছাড়া বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মজনু মিয়া তাঁদের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানায় অন্য মামলাটি করেছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুন্দরগঞ্জ থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দুটি মামলার বাদী আসামির নাম কমিয়ে অভিযোগপত্র দিতে বলছেন। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের নামও বাদ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাই অভিযোগপত্র দাখিলে বিলম্ব হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাংসদ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় মামলায় কিছু সাধারণ মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেসব নাম বাদ দিতে বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মামলার বাদী। কিন্তু আমার সঙ্গে পুলিশের কোনো যোগাযোগই নেই।’ আরেক মামলার বাদী মজনু মিয়াও একই ধরনের কথা বলেন।
অন্যদিকে ১৩টি মামলায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জামায়াতের সাবেক সাংসদ আবদুল আজিজকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, অচিরেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। আবদুল আজিজকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন