বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে হাসপাতালে দুই মাস ধরে কোনো চিকিৎসক নেই। এতে করে এখানকার রেলওয়ে কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রেলওয়ে কর্মচারীদের অভিযোগ, সান্তাহার জংশন শহরের এই হাসপাতালে একসময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ প্রচুর লোকবল ছিল। কিন্তু পরে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ জনবল কমিয়ে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ হাসপাতালটিতে মাত্র একজন চিকিৎসক ও কয়েকজন কর্মচারী রাখা হয়। হঠাৎ করে হাসপাতালের একমাত্র চিকিৎসক এস এম মারুফুল ইসলামকে সান্তাহার থেকে নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের প্রধান কার্যালয় রাজশাহী রেলওয়ে হাসপাতালে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে সান্তাহার শহরের রেলওয়ের প্রায় ৩০০ কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসাসংকটে পড়েন। সান্তাহার জংশন স্টেশনের স্টেশনমাস্টার দেওয়ান শহিদুল হক বলেন, সান্তাহার শহরে অন্য কোনো হাসপাতাল না থাকায় রেলওয়ে হাসপাতালটি একমাত্র সম্বল।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চিকিৎসকসংকট চরমে। এ কারণে সান্তাহার রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়োগ করা ওই চিকিৎসককে প্রায় দুই মাস আগে রাজশাহী কেন্দ্রীয় রেলওয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) ভোলানাথ ভট্টাচার্য গত মঙ্গলবার সকালে সান্তাহার রেলওয়ে হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে বলেন, চিকিৎসকসংকটের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সময় সান্তাহার জংশনের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক রাখার দাবি জানান। পরে রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষে রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতারা এবং উপজেলা ও সান্তাহার পৌর আওয়ামী লীগের নেতারা ওই চিকিৎসক কর্মকর্তাকে সান্তাহারে সপ্তাহে কমপক্ষে তিন দিন দায়িত্ব পালনের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন