default-image

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অবসরে যাওয়ার আগের পাঁচ মাসে দুদকের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে এই তালিকা আদালতে দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১০ মার্চ ইকবাল মাহমুদ দুদককের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন, দায়িত্ব পালন শেষে ১০ মার্চ তিনি অবসরে যান।
এদিকে ‘১০ বছর ধরে জালিয়াতি, ২৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে আজ প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদনের বিষয়ে অবস্থান কী, সে বিষয়ে ১১ এপ্রিলের মধ্যে সাধারণ বীমা করপোরেশনকে ব্যাখ্যা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ। প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে এ–সংক্রান্ত কাগজ ও তথ্যাদি এই সময়ের মধ্যে দাখিল করতে প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) আয় থেকে ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র। চক্রটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এ সংস্থারই প্রধান কার্যালয়ে অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম। ১০ বছর ৬ মাস ধরে এ কাণ্ড ঘটে চললেও এসবিসি ছিল পুরোপুরি অন্ধকারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে “দুদকে ‘অনুসন্ধান-বাণিজ্য’” শিরোনামে ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদন ও প্রথম আলোতে আজ প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনে তা পড়ে শোনান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক। শুনানি নিয়ে আদালত ওই আদেশ দেন। “দুদকে ‘অনুসন্ধান-বাণিজ্য’” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে এ–সংক্রান্ত কাগজ ও তথ্যাদি ১১ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষ সংবাদদাতাকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

দুদকে ‘অনুসন্ধান-বাণিজ্য’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ের আগে দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তাঁদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ পাঁচ মাসে তিনি দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন। তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানিতে ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন