দুদকের রিমান্ড শেষে শামীম-খালেদ আবার কারাগারে

বিজ্ঞাপন
default-image

ঠিকাদার জি কে শামীম ও বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সাত দিনের রিমান্ডে আনলেও সময় শেষের আগেই ফেরত দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জি কে শামীমকে পাঁচদিন ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে ৪ দিন নিজেদের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আজ বৃহস্পতিবার দুজনকেই আদালতে পাঠায় দুদক। আদালত দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, রিমান্ডে পাঁচদিনই অনেকটা মনমরা অবস্থায় ছিলেন জি কে শামীম। আর খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ছিলেন অনেকটা চনমনে ও আত্মবিশ্বাসী।

দুদক সুত্র জানিয়েছে, সময়ের ভেতরেই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করা হয়। সূত্রটি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই দুজনের অবৈধ সম্পদের ওপরই নজর ছিল তাদের। ওই সংক্রান্ত পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেছে। সূত্রের তথ্যমতে, শামীমের বিরুদ্ধে ২৯৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করা হলেও জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া গেছে। এটা কয়েকগুন হতে পারে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে খালেদের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও বেশ তথ্য বের করা গেছে জিজ্ঞাসাবাদে।

চলমান শুদ্ধি অভিযানে জিকে শামীমকে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শামীমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইন এবং মাদক আইনে মামলা করা হয়। এসব মামলা তদন্ত করছে পুলিশ ও র‍্যাব। ২৯৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত রোববার তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুদক।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেপ্তার হন গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের প্রথম দিনেই। গ্রেপ্তারের পর মাদক, অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২১ অক্টোবর খালেদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সোমবার তাঁকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দুদক।

সেপ্টেম্বরে চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঠিকাদার জি কে শামীম, বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তাঁর ভাই রুপন ভূইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া, কলাবাগান ক্লাবে সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ এবং যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সুমি রহমান এবং কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ও তারেকুজ্জামান রাজীবের বিরুদ্ধে ১১টি আলাদা মামলা করেছে দুদক।

পর্যায়ক্রমে এঁদের সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন