বিজ্ঞাপন

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পরিবহনশ্রমিক ও মালিকপক্ষের লোকজন বলছেন, করোনায় গত বছর টানা ৬৬ দিন গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। তখন বেকার হয়ে পড়া পরিবহনশ্রমিকেরা সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খান। অনেকে ঠিক সময়ে ঘরভাড়াও দিতে পারেননি। আবার গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউনে ৩৭ দিন দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ। আবারও বেকার হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ শ্রমিক। আয় না থাকায় অনেক শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সায়েদাবাদ আন্তজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটির কার্যকরী সভাপতি জলিলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকাসহ জেলার মধ্যে বাসসহ অন্যান্য পরিবহন চলছে। কিন্তু দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ ৩৭ দিন ধরে। ঈদের আগে আমরা দেখলাম, ফেরিঘাটে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি না মেনে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে বাড়ি ফিরে গেছে। শত শত মানুষের ভিড়ে মারাও গেছেন কয়েকজন। এই মানুষগুলো আবার গাদাগাদি করে এভাবে ফিরবে। অথচ যদি দূরপাল্লার বাস অর্ধেক যাত্রী নিয়েও চলাচল করার সুযোগ পায়, তাহলে যাত্রীদের এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসতে হবে না। খরচও কম লাগবে। আমরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। অবিলম্বে দূরপাল্লার বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি করছি।’

দূরপাল্লার বাস চালুসহ গণপরিবহনের মালিকদের সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে আজ শুক্রবার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।

শ্রমিকেরা বলছেন, সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে ১০ টাকায় ওএমএসের চাল বিক্রি করতে হবে। করোনায় গণপরিবহন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ মাফ ও কিস্তি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করতে হবে। সেই সঙ্গে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট নিয়ে ক্ল্যাসিফায়েড ঋণগুলো আনক্ল্যাসিফায়েড করতে হবে।

এ ছাড়া গাড়ির ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিটসহ সব ধরনের ফি মাফ করে কাগজ হালনাগাদ করার জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন