দেড় মাসের বেশি টানা অবরোধ-হরতালে বগুড়ার দেড় হাজার কৃষি যন্ত্রাংশ ও হালকা প্রকৌশল এবং ফাউন্ড্রি শিল্পে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাত বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। উদ্যোক্তাদের দাবি, দেড় মাসে এ শিল্পে আনুমানিক এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উদ্যোক্তারা জানান, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার সময় এই শিল্পের ক্ষতি হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কারখানাগুলোয় দেখা দিয়েছে কাঁচামালের সংকট।
বাংলাদেশ ফাউন্ড্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আইনুল হক জানান, বগুড়ায় এক হাজারের বেশি কৃষি, হালকা প্রকৌশল ও ৪০টি ফাউন্ড্রি শিল্পের পাশাপাশি কৃষি শিল্পপণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে আরও ছয় শতাধিক। বছরে এ শিল্পে লেনদেন হয় আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকা। বোরো মৌসুমের তিন মাসের (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) বাজার ধরতেই বছরের অন্য সময়ে কারখানায় শিল্পপণ্য উৎপাদন করে তা গুদামজাত করা হয়। এবার তিন মাসের দেড় মাসই টানা অবরোধ-হরতাল থাকায় এই শিল্প বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া পেট্রলবোমা হামলার কারণে ট্রাকভাড়া প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় কয়লা, ফার্নেস অয়েল, পিক আয়রন, হাডকোকের মতো কাঁচামাল বন্দর থেকে আনা যাচ্ছে না। এ কারণে কারখানাগুলোয় কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। এখানকার কারখানায় উৎপাদিত টিউবওয়েলের বিদেশে প্রচুর বাজার থাকলেও অবরোধ-হরতালের কারণে রপ্তানি বন্ধ। হাত গুটিয়ে বসে আছেন শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা। শ্রমিকদের বসে বসে বেতন দিতে হচ্ছে। টানতে হচ্ছে ব্যাংকঋণের বোঝা।
স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এখানকার উৎপাদিত শিল্পপণ্য রপ্তানি হয় ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটানসহ কয়েকটি দেশে।
বিসিক শিল্পনগরের এক নারী শ্রমিক শ্যামা রানী বলেন, ‘কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের পেট চলে না।’ শহরের শাপলা মার্কেটের ওয়ার্কশপ শ্রমিক জাফর আলী বলেন, ‘হরতালে ওয়ার্কশপ বন্ধ। কাম নেই। দেড় মাস ধরে বসে আছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।’
বগুড়া বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিজার রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজভাঙা লোহা বগুড়া পর্যন্ত আনতে আগে ট্রাকভাড়া লাগত ১৬ হাজার টাকা। এখন সেই ভাড়া বেড়ে ৪৫ হাজার টাকায় ঠেকেছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বোরোর ভরা মৌসুমেও এবার টিউবওয়েল, সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প, ধান রোপণ ও মাড়াই যন্ত্রের মতো কৃষিযন্ত্র দেশের কোনো বাজারে পাঠানো যায়নি।
বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল মেশিনারিজ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বামমা) সভাপতি সরকার বাদল বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেড় মাস ধরে অধিকাংশ কারখানা বন্ধ। গত বছর বোরোর ভরা মৌসুমে এমন রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল বগুড়ার এই শিল্প। এবারও চরম সংকটে সম্ভাবনাময় এ খাত। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে সম্ভাবনাময় এ শিল্প নিশ্চিত ধ্বংস হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন