প্রথম আলো: পদ্মা সেতুর উপকরণ সরবরাহ করে আপনারাও এই সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন।

সায়েফ নাসির: এ পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু। সেখানে শতভাগ সিমেন্টের জোগান দিতে পারা অবশ্যই হাইডেলবার্গসিমেন্টের জন্য অনেক বড় অর্জন। আমরা পদ্মা সেতুতে কমবেশি ২ লাখ ২০ হাজার টনের মতো সিমেন্ট সরবরাহ করেছি।

প্রথম আলো: পদ্মা সেতুতে মানসম্মত সিমেন্টের জোগান দিতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন?

সায়েফ নাসির: সেতুর প্রকৌশলীরা আলাদা করে তাঁদের চাহিদাসম্মত সিমেন্টের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁদের চাহিদার কথা জেনেই আমরা দরপত্রে অংশ নিই এবং আমরা সরবরাহের কাজটি পাই। এতে গুণগত মানের পণ্য সরবরাহ তো বটেই, ধারাবাহিকভাবে সিমেন্টের জোগান দেওয়া ছিল চ্যালেঞ্জ। আমরা সেটি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই করতে পেরেছি। এ ছাড়া আমাদের ৫০টির বেশি দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

default-image

প্রথম আলো: দেশে বর্তমানে সিমেন্টের বাজার কেমন, ১০ বছর পর এ খাত কোথায় যাবে?

সায়েফ নাসির: সব প্রতিষ্ঠান মিলে উৎপাদনের সক্ষমতা আছে বার্ষিক আট কোটি টনের মতো। এর মধ্যে বছরে তৈরি হচ্ছে চার কোটি টনের কম। অর্থাৎ, প্রায় অর্ধেকের মতো সক্ষমতা অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। এটা সিমেন্টশিল্পের জন্য ভালো নয়। এতে করে বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভারী পণ্য হওয়ায় রপ্তানি বাজারেও ভালো করার সুযোগ কম। এটি মৌসুমি ব্যবসা। শুষ্ক মৌসুমের চার মাসে বছরের অর্ধেক সিমেন্ট বিক্রি হয়। বর্তমান প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ৬ শতাংশ ধরে হিসাব করলে ১০ বছর পর দেশে বাজার দাঁড়াবে সাড়ে সাত কোটি টনের মতো।

প্রথম আলো: সিমেন্ট খাত কীভাবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে? কী ধরনের সুবিধা পেলে এ খাত আরও অবদান রাখতে পারবে?

সায়েফ নাসির: উন্নতমানের সিমেন্ট তৈরি হচ্ছে বলেই কিন্তু পদ্মা সেতুর মতো অবকাঠামোতে প্রকৌশলীরা দেশের সিমেন্ট ব্যবহারের ভরসা পাচ্ছেন। এতে আমাদের মধ্যে দেশে তৈরি সিমেন্টেই আরও বড় অবকাঠামো হবে, এই আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সেই অনুপাতে দেশে সিমেন্টের দামের সমন্বয় হওয়া প্রয়োজন। সরকারকে এ খাতের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। তা হলে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে সিমেন্টশিল্প।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন