বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ আইনবিদ সমিতিসহ (বেলা) ছয়টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন ৯ মে ওই রিটটি করেন। ২০ মে রিটটি শুনানির জন্য ওঠে। উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধ থাকবে জানিয়ে সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আরজি জানায়। আদালত চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি রাখেন। পরে গত ২৯ জুন রিটটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় উঠলে সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয় নিয়ে ২৪ জুন মিটিং হয়েছে। গাছ কাটাসংক্রান্ত সব কাজ বন্ধ আছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন আদালত সভার রেজল্যুশন আদালতে উপস্থাপনের পাশাপাশি রিট আবেদনকারীদের সরবরাহ করতে বলেন। ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ওই রেজল্যুশন দাখিল করার পর আজ শুনানি হয়।
শুনানিকালে আদালত বলেন, রেকর্ডে দেখা যাচ্ছে এখন আর গাছ কাটা হচ্ছে না।

সরকার গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছে। কাগজে দেখা যাচ্ছে, ৬০ জনকে নিয়ে ওই সভা হয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজের অগ্রগতি কতটুকু তা বলা হয়েছে। কী কী গাছ লাগানো হবে, সে বিষয়ে সুপারিশের জন্য কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়েছে।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উদ্দেশে আদালত বলেন, ঘটনা ও কার্যক্রম–সম্পর্কিত অগ্রগতির এ অবস্থায় বর্তমান রিটের প্রার্থনা, যুক্তি কীভাবে সাজাবেন তা জানাবেন।

তখন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক আপিল আছে। সভায় রিট আবেদনকারীদের আদালত ডাকতে বলেছিলেন, কিন্তু তা করা হয়নি। পুরো ধারণা পেতে প্রকল্প দেখতে ও জানতে হবে।

সরকারের প্রকল্প বাধাগ্রস্ত করতে চাই না। এর বাণিজ্যিক দিকগুলোর বিষয়ে আগেও একটি রায় আছে। রায় ও প্রকৃতির সঙ্গে ওই পরিকল্পনা কতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে জন্যই রিটটি করা হয়। যে সংখ্যক গাছ কাটা হয়েছে, সে সংখ্যক গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে বা আর কোনো গাছ কাটা হবে না—এমন অঙ্গীকার আসেনি। সভায় দু-একজন গাছ লাগানোর বিষয়ে বলেছেন। আর কমিটিও হয়নি।’

আদালত বলেন, কিসের কমিটি? তখন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যাচ্ছে হাঁটার পথ তৈরি করার জন্য আরও গাছ কাটা হবে। কিন্তু মুখে বলা হচ্ছে আর গাছ কাটা হবে না। সভার রেজল্যুশনের ৩ নম্বর পয়েন্টে বলেছে কী কী গাছ লাগানো হবে, তা সুপারিশের জন্য একটি কমিটি।

একপর্যায়ে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সভায় ডাকবে ভিডিও দেবে না, কমিটি গঠনের কথা বললেও কাগজ দেবে না। প্রকল্পটি হচ্ছে জনগণের টাকায়। একটি কাগজ দেবে, আরেকটি দেবে না, তা স্বচ্ছতার পরিচয় দেয় না—পুরো তথ্য জানার জন্য যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন