বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ভবনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগের প্রতিবাদে গত রোববার দুপুরে নগরের উমেশচন্দ্র গণগ্রন্থাগারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট খুলনা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। লিখিত বক্তব্যে জোটের খুলনার সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভবনটি সংরক্ষণের দাবি জানান। এ সময় শিক্ষক, ভাস্কর, নাট্যকর্মী, লেখক, আবৃত্তিকর্মী, চারুশিল্পী, নৃত্যশিল্পীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ভবন সংরক্ষণের দাবিতে মতবিনিময়, স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর গ্রহণ, প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কনসহ এক মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

‘এদিকে খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী ভেঙে ফেলে নয়—সংস্কার করতে হবে’, এমন দাবি তুলে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খুলনার সংগঠন জনউদ্যোগ এবং গুণীজন স্মৃতি পরিষদ।

খুলনার সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, আগামী বুধবার বেলা ১১টায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষকে নিয়ে নগরের বিএমএ ভবনে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষর গ্রহণ, প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কনসহ এক মাসের যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, ওই মতবিনিময় সভা থেকে কর্মসূচির দিনগুলো ঠিক করা হবে। আর আগামী শনিবার দৌলতপুরের সুধীসমাজ, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জনউদ্যোগ খুলনার সদস্যসচিব মহেন্দ্র নাথ সেন প্রথম আলোকে বলেন, আপাতত আগামী শনিবার নগরের পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা। ভবনটি সংরক্ষণের দাবিতে আরও কয়েকটি সংগঠন ওই প্রতিবাদ কর্সূচিতে অংশ নেবে।

এদিকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এ ভবন রক্ষা করে তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে ‘শশীভূষণ পাল চিত্রশিল্প জাদুঘর’–এ রূপ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।

বিবৃতিদাতারা হলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, সৈয়দ হাসান ইমাম, অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সারওয়ার আলী, আবেদ খান, সেলিনা হোসেন, লায়লা হাসান, আবদুস সেলিম, মফিদুল হক, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবির, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, মুনতাসীর মামুন, সারা যাকের ও শিমূল ইউসুফ।

আজ সোমবার দেওয়া বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, গত শতকে শশীভূষণ পাল নামে একজন শিল্পপ্রেমী মানুষ তাঁর নিজ বাড়িতে বাংলাদেশের প্রথম চিত্রশিল্প বিদ্যালয় স্থাপন করে যে নজির স্থাপন করেছিলেন, তা আমাদের ইতিহাসের গৌরবের অধ্যায়! নিজ বাড়িতে নিজস্ব চেষ্টায় যে সুরম্য ভবন তৈরি করেছেন, তা আমাদের ঐতিহ্যের স্মারক! সেই স্মারক ভেঙে ফেলার অর্থ হচ্ছে নিজ গৌরবের ইতিহাস থেকে বাংলাদেশকে এবং দেশের জনগণকে বিচ্ছিন্ন করা। ঐতিহ্য ও ইতিহাস ধ্বংসের এমন কর্মকাণ্ডে তাঁরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ।

ভবন ভাঙার বিষয়টিকে অপপরিকল্পনা দাবি করে তাঁরা ভবনটি ভাঙার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে এ ভবন রক্ষা করে তা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে শশীভূষণ পাল চিত্রশিল্প জাদুঘরে রূপ দেওয়ার জোর দাবি জানান।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন