বাংলাদেশের মানুষ বছরে গড়ে ৩ দশমিক ৬৩ কেজি মুরগির মাংস খায়; যেখানে মার্কিনরা খায় ৫০ দশমিক ১ কেজি৷ এ ছাড়া জাপানের মানুষ বছরে গড়ে ডিম খায় ৬০০টি, সেখানে দেশের মানুষ খায় ৪৫ থেকে ৫০টি৷ ফলে প্রতিদিনই মুরগি ও ডিমের ঘাটতি যথাক্রমে ২৬ ও ২৩ গ্রাম৷
গতকাল রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়ার্ল্ডস পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ শাখা (ওয়াপসা-বিবি) আয়োজিত ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টিচাহিদা পূরণে পোলট্রিশিল্পের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়৷ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও পোলট্রিশিল্প সমন্বয় কমিটির পৃথক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ওয়াপসা-বিবি৷
বৈঠকে পুষ্টি ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা অভিমত দেন, মাংস ও ডিমের ঘাটতির কারণে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির হচ্ছে, কম ওজনের হয় ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ক্ষীণকায় হচ্ছে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ৷ এ ছাড়া অপুষ্টির শিকার মা ও শিশুর সংখ্যা আগের চেয়ে কমলেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। তাই মেধাবী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়াতে হবে।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন, প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিম ও মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ অনেক কম। তাই প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা পূরণে এই শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষের আমিষের প্রধান উৎস হলো শর্করাজাতীয় খাবার। তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।
ওয়াপসা-বিবির সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, দেশের পোলট্রিশিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হবে নবম আন্তর্জাতিক পোলট্রি শো ও সেমিনার। এতে দেশ-বিদেশের ১৪৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। মেলা চলবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
মসিউর রহমান আরও বলেন, হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর। এ অবস্থা চলতে থাকলে অপুষ্টির শিকার মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া ‘নিরাপদ খাদ্য আইন’ কার্যকর করে পুরান ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মুরগির খাবার তৈরি করে—এমন কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ কৃষি ও খাদ্য সংস্থার (এফএও) জ্যেষ্ঠ পরামর্শক এম এ সাত্তার মণ্ডল বলেন, দেশে বর্তমানে মাংস ও ডিম উৎপাদনে মানের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রাণিস্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগের প্রধান মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, দেশে ২০৫০ সালে মানুষ হবে ২২ কোটি। তাই মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই শিল্পের ওপর নির্ভর করতেই হবে। এতে তৈরি হবে মেধাবী জাতি।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির সিএসও জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মাংস ও ডিম উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই কেবল নিরাপদ খাদ্য পাওয়া সম্ভব।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বাংলাদেশ দপ্তরের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট নীতীশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ভবিষ্যতে পুষ্টিচাহিদা পূরণে সরকার ও শিল্পমালিকদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন