বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ এক সূত্রে গাঁথা। মানুষ যত বেশি পশুপাখির সংস্পর্শে আসবে, তত রোগের ঝুঁকি বাড়বে।

মানুষকে জলাতঙ্ক রোগ থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদে রাখা যাবে না, যদি কুকুরকে টিকা দিয়ে রোগমুক্ত করা না যায়। একইভাবে গরু-ছাগল থেকে অ্যানথ্রাক্স মানুষে ছড়ায়। গবাদিপশুকে অ্যানথ্রাক্সমুক্ত করতে না পারলে মানুষে এই রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকেই যাবে। এ রকম আরও উদাহরণ আছে। তাই পৃথকভাবে না ভেবে মানুষ ও পশুপাখির স্বাস্থ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এটাই ওয়ান হেলথ বা এক স্বাস্থ্যের ধারণা।

গত প্রায় তিন দশকের পর্যবেক্ষণ থেকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিকভাবে নতুন যেসব রোগ দেখা যাচ্ছে বা পুরোনো যেসব রোগ নতুন করে আবির্ভূত হচ্ছে, তার ৭৫ শতাংশ আসছে জীবজন্তু বা পশুপাখি থেকে। জীবজন্তুর ওপর মানুষের নির্ভরতা, প্রাণী ও পশুপাখির নিবিড় সংস্পর্শে আসার প্রবণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এসব রোগের প্রকোপ বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। মানুষ আক্রান্ত হয় এমন ১ হাজার ৪৬১টি সংক্রামক রোগ পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস বলছে, এদের প্রায় ৬০ শতাংশের একাধিক বাহক আছে। এরা মানুষ, জীবজন্তু বা পাখির শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। অর্থাৎ কিছু রোগের জীবাণু পাখি থেকে পশুতে, পশু থেকে মানুষে বা পাখি থেকে মানুষের শরীরে বিচরণ করতে পারে, করে।

এটাই জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। যেকোনো একটি রোগে হঠাৎ বহু মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। তার অর্থনৈতিক প্রভাবও অনেক সুদূরপ্রসারী হয়ে দাঁড়ায়। নতুন করে রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচির কথা ভাবা হতে থাকে।

এক স্বাস্থ্যের ধারণা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ জাতিসংঘের কিছু অঙ্গসংস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা ইউএসএআইডির মতো আন্তর্জাতিক একাধিক দাতা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একাধিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এক স্বাস্থ্যের ধারণাকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা করছে প্রায় দুই দশক ধরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনসন (সিডিসি) বলছে, এক স্বাস্থ্য হচ্ছে বহুপক্ষীয় ও বহু খাতভিত্তিক সহযোগিতামূলক কর্মোদ্যোগ। এটি কার্যকর হবে স্থানীয়, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে। মানুষ, জীবজন্তু ও উদ্ভিদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং তাদের বসবাসের পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সবার স্বাস্থ্য ঠিক রাখাই এক স্বাস্থ্যের উদ্দেশ্য।

বৈশ্বিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠছে। নতুন বসতির জন্য জমি দরকার হচ্ছে। এ কারণে বন উজাড় হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবং কৃষি ও শিল্পের প্রসারের কারণেও বন কমে আসছে। এসব কারণে জীবজন্তুর সংস্পর্শে আসার সুযোগ বাড়ছে। পশুপাখি মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্য, চামড়া ও লোম, ভ্রমণ, খেলাধুলা, শিক্ষা এবং সংঘ লাভে পশুপাখির দরকার হয়। পশুপাখি ও তাদের পরিবেশের নিবিড় সংস্পর্শে গেলে তাদের রোগ মানুষে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ ও আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পশুপাখির মধ্যে নতুন রোগ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার কারণে মানুষ, জীবজন্তু এবং পশুজ পণ্যের বৈশ্বিক চলাচল বেড়েছে। সেই কারণে যেকোনো সংক্রামক রোগের দ্রুত দেশের সীমান্ত অতিক্রম করার এবং বৈশ্বিকভাবে তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বেড়েছে।

নিকট অতীতে বন্য ও গৃহপালিত পশুপাখি থেকে আসা জীবাণু বা রোগ বিশ্বে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল। সেই তালিকায় আছে: অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্ক, কিউ ফিবার, চ্যাগাস ফিবার, টাইপ এ ইনফ্লুয়েঞ্জা, রিফট ভ্যালি ফিবার, সার্স, মার্স, ইবোলা এবং এইচআইভি। এই তালিকায় সবশেষ যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস।

বাংলাদেশ পরিস্থিতি

স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে ১৯টি নতুন রোগ ও পুরোনো রোগ নতুনভাবে দেখা দিয়েছে। রোগতত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন, ১৯৭৭ সালে এ দেশের মানুষ প্রথম ‘জাপানিজ এনকেফালাইটিস’ রোগে আক্রান্ত হয়। তার আগে এই রোগ দেশে ছিল না। এর বাহক মশা। এইচআইভি/এইডস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, নিপাহ, জিকা—এসব রোগ অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে। সবশেষ নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে এ দেশে।

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পশুপাখি থেকে মানুষে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা বা ইউরোপের কোনো দেশে দেখা দেওয়া নতুন রোগ কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে চলে আসতে দেখা গেছে। কখনো সময় নেয় বেশি, কখনো কম। যেমন এইচআইভি/এইডস বৈশ্বিকভাবে আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছিল ১৯৮০ সালে। ওই ভাইরাস বা রোগ বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। নিপাহ ভাইরাস মালয়েশিয়ায় প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। এর চার বছর পর তা বাংলাদেশে শনাক্ত হয়। করোনাভাইরাস চীনের উহানে প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষে। আড়াই মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২০ সালের ৮ মার্চ তা বাংলাদেশে শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়।

এ ছাড়া অতীতের কিছু রোগ বাংলাদেশে নতুন করে দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে আছে ডেঙ্গু ও অ্যানথ্রাক্সের মতো রোগ। এ বছরও ডেঙ্গুতে দেশে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন মারা গেছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী বছরগুলোতে ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

এসব রোগের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিও অনেক বড় আকারে দেখা দেয়। আইইডিসিআরের ২০১১ সালের এক হিসাব বলছে, ২০০৭ সালে দেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু দেখা দেওয়ার পর তা দেশের ৫২টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় প্রায় ২৪ লাখ মুরগি মেরে ফেলা হয়েছিল। ২০০৭-০৮ সালে প্রত্যক্ষ আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল ২৫৮ কোটি টাকা। বার্ড ফ্লুর কারণে সার্বিকভাবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

২০১০ সালে দেশের ১৫টি জেলায় গরু–ছাগল অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। এই বছর ১২টি জেলায় ৬০৭ জন মানুষ অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিল। অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ মাংস ও চামড়ার বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলেছিল।

দেশে এক স্বাস্থ্যের কর্মকাণ্ড

২০০৮ সালে ১২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা ‘ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ’ নামে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। এখন এটি একটি কর্মসূচি হিসেবে কাজ করছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এর সচিবালয় হিসেবে কাজ করে।

ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৪০০। এর মধ্যে আছেন: চিকিৎসক, পশু চিকিৎসক, কৃষিবিদ, পরিবেশবিদ, বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ, নৃ-বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞানী ও আন্দোলনকর্মী।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ২০১২ সালে এক স্বাস্থ্য দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের কৌশলপত্র তৈরি করে। এই কৌশলপত্র তৈরিতে সহায়তা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইউনিসেফ।

২৬ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের ওয়ান হেলথ হাই লেবেল এক্সপার্ট প্যানেলের সদস্য এবং ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক নিতিশ চন্দ্র দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, ওয়ান হেলথের মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে: (১) আইইডিসিআর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বন বিভাগ যৌথভাবে নিয়মিতভাবে রোগ পর্যবেক্ষণ ও প্রকোপ অনুসন্ধান (সার্ভিল্যান্স ও আউট ব্রেক ইনভেস্টিগেশন) করে; (২) কিছু গবেষণার কাজ চলছে; (৩) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আছে: এবং (৪) অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সীমিত বা নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ওয়ান হেলথ বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে সম্মেলন আয়োজন করে। এ ছাড়া জনসচেতনতা বাড়ানোর কিছু কর্মকাণ্ড তাদের আছে।

‘স্টপ স্পিলওভার’

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে ঠিক কোন প্রাণীর দেহের ভাইরাস কীভাবে মানুষের শরীরে এসেছিল, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে বিজ্ঞানীরা বলতে পারছেন না। তবে এখন পর্যন্ত এই ধারণা প্রবলভাবে প্রতিষ্ঠিত যে উহানের সি ফুড মার্কেটের কোনো প্রাণী থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে এসেছিল।

বন্য বা গৃহপালিত পশুপাখির রোগ উপচে বা ছলকে মানুষের শরীরে আসতে পারে। এটা ঠেকানোর একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাতা সংস্থা ইউএসএআইডির অর্থায়নে ‘স্টপ স্পিলওভার’ (উপচে পড়া ঠেকান) নামের এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশে শুরু হয়েছে। অন্য দেশগুলো হচ্ছে ভিয়েতনাম, উগান্ডা, কেনিয়া ও কঙ্গো।

এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। এই উদ্যোগ বা কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত আছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশও (আইসিডিডিআরবি)।

সেপ্টেম্বর মাস থেকে আইসিডিডিআরবির উদ্যোগে জীবজন্তু, পশুপাখি থেকে মানুষে রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর করণীয় নির্ধারণে ধারাবাহিক কর্মশালা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে চারটি কর্মশালা হয়েছে। আরও তিনটি কর্মশালা হবে বলে জানা গেছে। এসব কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীরা ছাড়াও দেশি-বিদেশি বেশ কয়েকজন জনস্বাস্থ্যবিদ, পরিবেশবিদ অংশ নিচ্ছেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা ২৫টির বেশি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছেন যেখান থেকে পশুপাখির রোগ মানুষে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কর্মকৌশল নির্ধারণ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি হাঁস-মুরগি এবং অন্যটি বাদুড়।

‘কর্মশালায় কোন কোন স্থান ও কোন কোন পশুপাখি থেকে স্পিলওভার হতে পারে, তা চিহ্নিত করা বা ম্যাপিং করার চেষ্টা হচ্ছে। এসব স্পিলওভার বন্ধ করতে কার কী ভূমিকা, তাও ম্যাপিং করা হচ্ছে। পুরো কাজ হচ্ছে ওয়ান হেলথ কর্মকৌশলের আঙ্গিকে
মুশতাক হোসেন, আইইডিসিআরের পরামর্শক

পোলট্রি ফার্ম থেকে হাঁস-মুরগি পরিবহনের সময়, হাঁস-মুরগির বাজারে, এমনকি হোটেল থেকেও রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। পোলট্রি ফার্মের বর্জ্য পরিবহনের সময় এবং তা কৃষি জমিতে ব্যবহারের সময় রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে বলে কর্মশালায় বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বাদুড়ের মাধ্যমে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। ইতিমধ্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে বাদুড়ের কারণে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়েছে। নিপাহ ভাইরাস থাকে বাদুড়ের শরীরে। বাদুড় খেজুরের রস খাওয়ার সময় রসে ভাইরাস মিশে যায়। মানুষ খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার কারণে সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। কর্মশালায় বলা হয়েছে, বাদুড় থেকে শূকরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। বাদুড় শিকারিরাও সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে।

আইইডিসিআরের পরামর্শক মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘কর্মশালায় কোন কোন স্থান ও কোন কোন পশুপাখি থেকে স্পিলওভার হতে পারে, তা চিহ্নিত করা বা ম্যাপিং করার চেষ্টা হচ্ছে। এসব স্পিলওভার বন্ধ করতে কার কী ভূমিকা, তাও ম্যাপিং করা হচ্ছে। পুরো কাজ হচ্ছে ওয়ান হেলথ কর্মকৌশলের আঙ্গিকে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন