খসড়া জাতীয় পুষ্টিনীতিতে বলা হয়েছে, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রতি পাঁচটি শিশুর দুটি খর্বকায়। আর প্রজননক্ষম বয়সের নারীদের ১৩ শতাংশ খর্বকায়। খর্বকায় নারী সন্তান জন্মদানের সময় জটিলতার ঝুঁকি থাকে। দেশে কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুর হার অনেক বেশি।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এই পুষ্টিনীতির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। ‘জাতীয় পুষ্টিনীতি, ২০১৫’-এর লক্ষ্য হচ্ছে: মা, কিশোরী ও শিশুসহ বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি করা, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা এবং জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
অনুষ্ঠানের সভাপতি স্বাস্থ্যসচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম সভার শেষ পর্যায়ে বলেন, আশা করা হচ্ছে, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগে জাতীয় পুষ্টিনীতি মন্ত্রিসভায় পাস করা সম্ভব হবে।
সভায় বলা হয়, জাতীয় পুষ্টিনীতি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদদের নিয়ে গঠিত একটি কারিগরি কমিটি নীতি প্রণয়নের মূল কাজটি করে। বিশেষজ্ঞদের সেই খসড়া নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একাধিক সভা করেছে। মতামতের জন্য সেই খসড়া মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে গতকাল পুষ্টিনীতির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও কৃষি, খাদ্য, শিক্ষা, অর্থ, নারী ও শিশু, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গসংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় পুষ্টিবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পুষ্টিবিজ্ঞানী ড. এস কে রায় বলেন, পুষ্টিনীতি যুগোপযোগী হয়েছে, ভালো হয়েছে।
খসড়া পুষ্টিনীতির শুরুতে দেশের পুষ্টি পরিস্থিতির একটি চিত্র দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ছয় লাখ শিশু মারাত্মক অপুষ্টির শিকার। দেশে শিশু অপুষ্টির হার কমছে, তবে কমার হার অত্যন্ত কম। অন্যদিকে বয়ঃসন্ধিকালীন মেয়েদের এক-চতুর্থাংশ অপুষ্টির শিকার। পুষ্টিনীতিতে আরও বলা হয়েছে, গ্রাম ও শহরের পুষ্টি পরিস্থিতিতে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। শহরের বস্তির শিশু ও নারীরা তুলনামূলকভাবে খারাপ অবস্থায় আছে।
সব নাগরিকের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি করা, নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করা, পুষ্টিকেন্দ্রিক ও পুষ্টিসম্পর্কিত কার্যক্রম জোরদার করা এবং অন্যান্য খাতকে পুষ্টির কাজে সম্পৃক্ত করা এই নীতির উদ্দেশ্য বলে খসড়ায় বর্ণনা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন