বর্তমানে দেশে পাঁচ বছ​র পর্যন্ত বয়সী শিশুদের ৩৬ শতাংশের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা গেলে এবং পরিবারে পুষ্টি-সচেতনতা বাড়াতে পারলে ২০২৫ সালের মধ্যে খর্বাকৃতি শিশুর সংখ্যা ১৬ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য যদি সরকার আলাদা কর্মসূচি নেয়, তাহলে পরিবারপ্রতি বছরে খরচ হবে ৫৬ হাজার টাকা। আর পরিবারের সদস্যদের পুষ্টিবিষয়ক জ্ঞান বাড়ানো গেলে এবং প্রশিক্ষণ দিতে পারলে বছরে তিন থেকে চার হাজার টাকাতেই তা সম্ভব।

খাদ্যনীতিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইফপ্রি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টি নীতিবিষয়ক দিনব্যাপী এক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে ইফপ্রি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী আখতার আহমেদ এসব তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকে ইফপ্রির মহাপরিচালক শেনজেন ফান বলেন, গত কয়েক যুগে বাংলাদেশ খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ২ থেকে ৩ শতাংশ কম হয় অপুষ্টিজনিত সমস্যার কারণে। ফলে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতির দিকে নজর দিতে হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সারা বছর ১৪০ থেকে ১৪৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদাহরণ।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক বিনায়ক সেন বলেন, নারীদের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতির ক্ষেত্রে বড় সমস্যা পরিবারে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ, সংসারে ছেলেসন্তানের জন্য পুরুষদের আকাঙ্ক্ষা এবং বাল্যবিবাহ।

বৈঠকে কৃষি ও খাদ্যবিষয়ক সরকারি এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন