অবরোধ-হরতালের ভয়ে প্রবাসী সন্তানদের দেশে আসতে দিচ্ছে না তাঁদের পরিবার, বিশেষ করে তাঁদের মায়েরা। এতে বিয়েসহ সামাজিক অনেক অনুষ্ঠান আটকে আছে।
খোকন মিয়া (৩২) প্রায় ছয় বছর ধরে ইতালিপ্রবাসী। এর মধ্যে তিনি আর দেশে আসেননি। দুই মাসের ছুটি নিয়ে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু মায়ের বারণের কারণে খোকনের আপাতত দেশে ফেরা হচ্ছে না। খোকন কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহর চণ্ডীবেড় দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা।
বারণের কারণ হিসেবে খোকনের মা রোকসানা বেগম বলেন, ‘আইয়া কী করব, আগুনে পুইড়া মরত?’ টিভি খুললে বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন, ভাঙচুর আর পোড়া মুখ ছাড়া কিছু দেখা যায় না। এসব দেখলে আমার খুব কষ্ট হয়। ওই পোড়া মুখে নিজের সন্তানের অবয়ব কল্পনা করে আঁতকে উঠি।’ এসব কারণে ছেলেকে তিনি দেশে আসতে বারণ করেছেন।
উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের নূর মিয়া (৩০) থাকেন দুবাইয়ে। তাঁর বিয়ের কথাবার্তা চলছে। পাত্রীও ঠিকঠাক। বর ও কনেপক্ষ প্রস্তুত থাকলেও দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে নূর মিয়ার বিয়ের আয়োজন পিছিয়ে দিয়েছে তাঁর পরিবার।
নূর মিয়ার মা হুসনা বেগম বলেন, ‘আইতে আমিই না করতাছি। না করতাম না কেরে? এয়ারপোর্ট থাইক্কা বাড়ি আওয়ার সময় অবরোধওলারা গাড়িতে আগুন দিব না, এর গ্যারান্টি কী। পুইড়া মরার চেয়ে বিদেশ পইড়া থাহন অনেক ভালা।’
পৌর শহর চণ্ডীবেড় মধ্যপাড়ার মো. কাইয়ুম (৩৮) সৌদি আরবপ্রবাসী। সন্তানের আকিকার আয়োজনের জন্য দেশে আসার কথা থাকলেও বাবা-মা ও স্ত্রীর বারণের কারণে এখন আর আসা হচ্ছে না। কাইয়ুমের মা আছিয়া বেগম বলেন, ‘নিজে উপস্থিত থাইক্কা সন্তানের আকিকা দিব, এইডা আমার ছেলের শখ আছিল। দেশের এই অবস্থার কারণে আমি কইছি, এহন শখ করার সময় না।’
উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামের ইতালিপ্রবাসী মোশারফ হোসেনের (৩০) বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত প্রায়। তাঁকেও তাঁর পরিবার দেশে আসতে দিচ্ছে না। মোশারফের মা তহুরা খাতুন বলেন, ‘মোশারফরে কইছি বিয়ার দরকার নাই, বাইচ্চা থাকলে বিয়া করন যাইব। আগুনের মধ্যে কই আইবা।’ রাজনীতিবিদদের কাছে তাঁর চাওয়া, যেন তাঁরা দ্রুত মতৈক্যে পৌঁছান। আর আগুনের বীভৎসতা দেখা থেকে তাঁদের মুক্তি দেন।
সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের জন্য উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা মালয়েশিয়াপ্রবাসী লিয়াকত মিয়ার (৪৫) দেশে ফেরা জরুরি। ওই একই কারণে তাঁরও দেশে আসা আটকে আছে। লিয়াকতের মা কুদরতী বেগম বলেন, ‘সম্পত্তি দিয়া কী করুম, পোলা না বাঁচলে। লিয়াকতরে কইছি, বিদেশ পইড়া থাহ, দেশে আহনের কোনো কাম নাই। দেশে হরতাল-অবরোধ দুইডা একলগে চলতাছে।’
একই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ছেলেকে আপাতত দেশে না আসার কথা বলেছেন চণ্ডীবেড়ের ইতালিপ্রবাসী জিয়া মিয়ার (৩৫) মা খায়রুন্নেছা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন