দ্রুত মধ্যবর্তী নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ। জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল শুক্রবার ভাষাসৈনিক অলি আহাদ স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
অলি আহাদ স্মৃতি সংসদ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মতে, একটি সঠিক মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে এখনকার রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার বলুন আর অনাচার—এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে জনগণের ম্যান্ডেট দরকার। নির্বাচন দিন, ম্যান্ডেট নিন। পেট্রলবোমা আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে।’
বর্তমান রাজনীতিকে বিষাক্ত আখ্যায়িত করে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, যা বিকৃত করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি অংশের কাজ হচ্ছে বিরোধী দলকে অমানবিক উপায়ে দমন করা। এমনকি গাড়ি থেকে নামিয়ে গুলি করা হচ্ছে। র্যা বের কেউ কেউ টাকার বিনিময়ে হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষক হিসেবে মনে করি, ২০১৪ সালে যে নির্বাচনটা হলো, ১৫৩ জন নিজের ভোটটাও দিতে পারলেন না। বিনা সংকোচে সংসদে চলে গেলেন। আত্মসম্মানবোধ থাকলে শপথ নিতেন না। আজকে খালেদা জিয়া যে আন্দোলন করছেন, সেটা ওই ১৫৩ জনেরই করা উচিত ছিল।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলেন, একবার বিনা পরীক্ষায় স্নাতক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তখন ডিগ্রি নিয়ে অনেকেই চাকরি পাননি। পরে তাঁরা নিজেরাই আন্দোলন শুরু করেন যেন তাঁদের আবার পরীক্ষার মাধ্যমে সনদ দেওয়া হয়।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সংলাপে বসুন, নতুবা সময় পাবেন না। তখন দাঁড়িয়েই থাকতে হবে। পুরো জাতিকে নিয়ে সংলাপ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ম রক্ষার হলে এরপর আলোচনা বন্ধ রাখলেন কেন? বিএনপির মতো বড় সংগঠন থাকলে আমি আরও বড় সমাবেশ করতাম, অবরোধ দিতাম।’ তবে ২১ ফেব্রুয়ারিতে কোনোরকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই অবরোধ বন্ধ রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু বলেন, জনতার গণতন্ত্র দেখা যাচ্ছে না। এর জন্যই কী ভাষা আন্দোলন হয়েছিল? কী পেয়েছে এ দেশের মানুষ?
অলি আহাদের মেয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, অলি আহাদ ভাষা আন্দোলনের জন্য জেল-জুলুম খেটেছেন, মাথা নত করেননি। অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সব সময়ই মাথা উঁচু রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন