ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে সামাজিক বৈরিতা বেড়ে যাচ্ছে। ব্যাপক সামাজিক বৈরিতা আছে, এমন ১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ।
‘ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও বৈরিতার সাম্প্রতিক প্রবণতা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে পিউ রিসার্চ সেন্টার। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের তথ্যগুলো ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে সংগ্রহ করা। গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টার বিশ্বের ১৯৮টি দেশের সামাজিক বৈরিতার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ধর্মীয় কারণে সামাজিক বৈরিতা ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৩ সালে কমে গেছে। ২০১২ সালে ধর্মীয় কারণে ব্যাপক মাত্রায় সামাজিক বৈরিতা আছে, এমন দেশের সংখ্যা ছিল ২০। সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৮তম। ২০১৩ সালে এসব দেশের সংখ্যা কমে হয়েছে ১৭। তবে এই ১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দাঁড়ায় ষষ্ঠ।
ধর্মীয় কারণে সামাজিক বৈরিতা আছে, এমন দেশের মধ্যে প্রথমেই আছে ইসরায়েল। দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত, চতুর্থ স্থানে পাকিস্তান।
পিউ সেন্টারের প্রতিবেদনে ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সরকারি প্রতিবন্ধকতার তালিকাও প্রকাশ করা হয়। খুব বেশি প্রতিবন্ধকতা, বেশি এবং মাঝারি—এ তিনটি ধরনের মধ্যে ‘বেশি’ ধরনের ৩৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২২। বিশ্বে সরকারিভাবে ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতা সবচেয়ে বেশি চীনে।
পিউয়ের প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর নিগ্রহের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের ২৫টি জনবহুল দেশের মধ্যে মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিসর, ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়ায় ধর্মীয় কারণে সামাজিক বৈরিতার পাশাপাশি সরকারি প্রতিবন্ধকতাও বেশি। এ দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৭৫ ভাগ মানুষ বাস করে। দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইতালি, জাপান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাজ্যে সরকারি প্রতিবন্ধকতা কম। জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক বৈরিতা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন