default-image

গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এই সময়ে ধর্ষণের ঘটনা কিছুটা কমলেও ধর্ষণের ভয়াবহতা বেড়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রকাশ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদন ও গত বছর প্রকাশিত একই সময়ের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

আজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের ঘটনা অনেক ঘটেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির চাকমা সম্প্রদায়ের এক নারী ও ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে আসক বলেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ মাসে সারা দেশে ৯৭৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের পর ৪৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে আর আত্মহত্যা করেছেন আরও ১২ জন নারী। গত বছর একই সময়ে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল ১ হাজার ১১৫টি। ওই সময়ে ৫৭ জন নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক নির্যাতনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম ৯ মাসে পারিবারিক নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েছে। আসকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম ৯ মাসে ২৯৭ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, চলতি বছরের একই সময়ে এটি বেড়ে ৪৩২ হয়েছে। এ বছর নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে ২৭৯ জন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৭৪ জন নারী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে যৌন হয়রানি, যৌতুক চেয়ে নির্যাতনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে। গত বছরের প্রথম ৯ মাসে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ছিল ১২, চলতি বছর সেটি বেড়ে ২১ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নারী নির্যাতন ও হত্যা ছাড়াও আসকের প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সীমান্ত সংঘাতের মতো বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১৮৫ জন এবং হেফাজতে থাকা অবস্থায় আরও ২৭ জন মারা গেছেন। এই সময়ে ভারত সীমান্তে হত্যার শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। এ ছাড়া ২০৯ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

আসকের কার্যনির্বাহী পরিষদের মহাসচিব নূর খান স্বাক্ষরিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আইনের শাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা জরুরি।

মন্তব্য পড়ুন 0