ভোট উৎসব থেকে বঞ্চিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার অনেক ভোটার। চতুর্থ ধাপে আজ শনিবার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট হবে।

এই পাঁচ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ধানের শীষ প্রতীকের কোনো প্রার্থী নেই। চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এসব ইউনিয়নে এখন শুধু সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ভোট হবে। এসব পদেও অধিকাংশ ওয়ার্ডে বিএনপির প্রার্থী নেই। এ জন্য ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই।
দক্ষিণ চর আবাবিল গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক হানিফ মিয়া বলেন, ‘আগের ভোটগুলোতে এলাকায় উৎসব ছিল। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। আলাপ-আলোচনা করে জেনেছি, আমার মতো সাধারণ মানুষও ভোট দেবেন না।’
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চরপাতা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হেজবুল্লা গুনু, বামনীর সালেহ উদ্দিন ও দক্ষিণ চর আবাবিলের আলমগীর হোসেন মাঝি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। আর রায়পুর ইউপির চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ইউছুফ মিয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। এ চার ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। কেরোয়া ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম সরকার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও ইউনুছ নামের এক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করে ঢাকায় চলে যান। এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান কামাল এককভাবে ভোটের মাঠে আছেন।
চরপাতা ইউপির পশ্চিম চরপাতা গ্রামের হোসেন তালুকদার, বামনী গ্রামের কামাল হোসেন, কেরোয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামসহ পাঁচ ইউপির ২০ জন ভোটার বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীরা নির্বাচন করতে পারেননি। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আর কী লাভ হবে। এটা নিয়মরক্ষার ভোট হচ্ছে। এ ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগ্রহ নেই। এ জন্য তাঁরা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন না।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, বিএনপির প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হুমকি-ধমকি দেন। ভয়ভীতির কারণে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছেন। এ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের কোনো আগ্রহ নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে কোনো প্রার্থীকে হুমকি বা চাপ দেওয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন বলেন, চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকায় চারটি ইউপিতে নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন হবে। এ জন্য ভোটারদের আগ্রহ একটু কম।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন