ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চৌরাস্তার ধারে লোকজনের জটলা। যাঁরাই জটলা ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন, তাঁদের প্রায় সবার বুকেই বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতীকের ব্যাজ শোভা পাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের আগের দিন বিভিন্ন প্রতীকের ব্যাজ বিক্রি করছিলেন কয়েকজন বিক্রেতা। বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের পছন্দের প্রতীকসংবলিত ওই ব্যাজ কিনে নিচ্ছেন।
ব্যাজ বিক্রেতাদের একজন বগুড়া শহরের সোহাগ আলী। তিনি বলেন, তাঁর ছোট-বড় মিলিয়ে হাজার খানেক ব্যাজ ও ফিতা বিক্রি হয়েছে। লক্ষণীয় যে সোহাগের কাছে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো ব্যাজ নেই। এ বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘চাহিদা নাই। চলে না দেইখা ধানের শীষের বেইজ কম আনচি।’
আরেক বিক্রেতা আবদুল গনি ধানের শীষের ব্যাজ এনেছিলেন ঠিকই। কিন্তু খুব একটা বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীকের ব্যাজের তেমন কাটতি নেই। তিনি এ পর্যন্ত ধানের শীষের ব্যাজ বিক্রি করতে পেরেছেন মাত্র ১০ পিস। তবে নৌকা প্রতীকের ব্যাজ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০০ পিস। সে তুলনায় আনারস, ঘোড়া ও মোটরসাইকেল প্রতীকের ব্যাজের বিক্রিও ভালো।
লাঙল প্রতীকের ব্যাজ এনে লোকসানের মুখে পড়েছেন রহিম উদ্দিন নামে অপর এক বিক্রেতা। রহিম বলেন, তাঁর ভাষায়, ‘মনে করছিলাম এখানে নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল মার্কায় ভোট হবে। আইসা দেখি, এইখানে লাঙ্গলের কোনো লোকই ভোটে দাঁড়ায় নাই।’ তিনি বলেন, সদস্যপদের ফুটবল, সূর্যমুখী, তালা, মোরগ, আপেল, টিউবওয়েল ইত্যাদি প্রতীকের ব্যাজ বেশি বিক্রি হয়েছে। আর চেয়ারম্যান পদে নৌকার ব্যাজই এককভাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন ডিজাইনের একেকটি ব্যাজের দাম পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চাড়োলের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবু হায়াত নুরুন্নবী বলেন, অন্য সব উপজেলার তুলনায় বালিয়াডাঙ্গীর রাজনৈতিক পরিবেশ কিছুটা ভিন্ন। ভয়ভীতির দেখানোয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা ঝামেলায় পড়তে চান না। তাঁরা অনেকটা নীরবেই ভোটের প্রচারণা চালান। ধানের শীষের ব্যাজ বিক্রি কম হওয়ার পেছনে সেটাই কাজ করছে।
চতুর্থ দফায় আজ শনিবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আটটি ইউপিতে নির্বাচন। ভোটের দিন এসব এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকসংবলিত ব্যাজ বুকে লাগিয়ে ভোটারের নজরে আনার চেষ্টা করেন। এ কারণে ভোটের আগের দিন ব্যাজের চাহিদাও তাই বেশি থাকে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন