১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির সঙ্গে বাংলাকে মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৯৮-৯৯ সালে বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ঘোষণার জন্য কানাডায় জনমত গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। গতকাল শনিবার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কুমিল্লার এই দুই কীর্তিমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করলেন কুমিল্লাবাসী। এর মধ্যে রফিকুল ইসলামের নামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাউন হলের মুক্তমঞ্চের নামকরণ করা হয়।
গতকাল বিকেলে কুমিল্লা টাউন হলের রফিকুল ইসলাম মঞ্চে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা হয়। এতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অন্যতম
রূপকার রফিকুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. হাসানুজ্জামান কল্লোলের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ওমর ফারুক, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হাসান, ইতিহাসবিদ গোলাম ফারুক প্রমুখ।
সভায় সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে ১৯৭১ সালের মার্চে কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগরপাড় এলাকার নিজ বাসা থেকে কুমিল্লা সেনানিবাসে তুলে নিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। এরপর তাঁর আর হদিস মেলেনি। অন্যদিকে ১৯৯৮ সালের ৯ জানুয়ারি জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনানকে চিঠি দেন কানাডায় বসবাসরত কুমিল্লা নগরের রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম। ওই চিঠিতে তিনি বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ঘোষণার দাবি জানান। একই সঙ্গে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানান। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেসকোর ৩০তম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। রফিকুল ইসলাম ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর কানাডায় মারা যান।
ইতিহাসবিদ গোলাম ফারুক বলেন, কুমিল্লার দুই সন্তান বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের জন্য অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে এবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের গভীরভাবে স্মরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন