বগুড়ার ধুনটে ৫৮ জাতের বোরো ধান পাকার আগেই নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে শিষ শুকিয়ে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। চাষিরা কীটনাশক প্রয়োগ করেও এই রোগ দমনে ব্যর্থ হওয়ায় ফলনে বিপর্যয় ঘটেছে।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার তারাকান্দি, ফকিরপাড়া, চালাপাড়া, আনারপুর, ভরনশাহীসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা যায়, অনেক খেতে ধান পাকার আগেই নেক ব্লাস্ট রোগে ধানের শিষ শুকিয়ে হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে।
আনারপুর গ্রামের কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, ‘গত বছর অন্য জাতের ধান আবাদ কইরা ফলন কম পাইছিলাম। তার লাইগা এ বছর ধার-দেনা কইরা ব্রি-৫৮ জাতের ধান আবাদ করছি। প্রথম দিকে ধানের গাছ ও শিষ দেইখা ভালোই মনে হইতেছিল। এখন পাকার সময় হঠাৎ ধানগাছের পাতার রং বদলাইয়া শিষ শুকাইয়া যাইতেছে। অনেক ওষুধ দিলাম। কিন্তু কাম হইল না। তাই তাড়াতাড়ি কইরা ধান কাইটা লাইতাছি।’
ফকিরপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেন বলেন, ‘গত বছর এই ধান আবাদ কইরা ভালো ফল পাইছিলাম। তার জন্য এ বছর বেশি কইরা আবাদ করছি। লাভ করবার যাইয়া নোকসান হইতাছে।’ তিনি আরও বলেন, সকালে এ রোগের আক্রমণ দেখা দিলে বিকেলেই পুরো খেতের শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে ধান চিটা হয়ে যায়। ধান রক্ষায় নানা ধরনের কীটনাশক দিয়েও লাভ হয়নি।
ধুনট উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর চলতি মৌসুমে ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭০০ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার কৃষক ১ লাখ ১৯ হাজার ৭৭৫ বিঘা জমি চাষ করেছেন। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ কৃষক ১২ হাজার ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রি-৫৮ জাতের ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ২৫-৩০ মণ করে এই ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উফশী জাতের এই ধানের ফলন অন্য জাতের চেয়ে বেশি।
গত চার বছর বোরো মৌসুমে কৃষক এই ধান চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। কিন্তু এবারই প্রথম খেতের প্রায় ৭০ শতাংশ ধান নেক ব্লাৎস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ফলনে বিপর্যয় ঘটেছে। কৃষকদের লাভের চাইতে লোকসানের হারটা অনেক বেশি হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্যাপক হারে কথাটি সঠিক নয়। কিছু এলাকার ধানখেতে এই নেক ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। এটা একপ্রকার ছত্রাকজাতীয় রোগ। এ রোগে আক্রান্ত ধানের বীজ রোপণ করলে সেই জমিতেও এ রোগ দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া ধানখেতে অধিক মাত্রায় ইউরিয়া সার প্রয়োগ, জমিতে ঘন করে চারা রোপণ, দিনে গরম রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া ও জমির উপরিভাগে পটাশ সার প্রয়োগ না করায়ও এই রোগ হয়। তাই এই রোগ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের আগে থেকে পরামর্শ দেওয়া ছিল। এখন তাঁদের রোগে আক্রান্ত জমি থেকে ধান দ্রুত কেটে ফেলতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন