নওগাঁয় গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল—এই চার মাসে এ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১২ হাজারেরও বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হয় ১০৫ জন করে রোগী। তবে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ ও আলাদা চিকিৎসা সেল গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।
জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ একটি সদর হাসপাতাল রয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে নওগাঁ সদর হাসপাতাল ও ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ হাজার ৬৫৪ জন মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয় নওগাঁ সদর হাসপাতালে। এ সংখ্যা ২ হাজার ১৯০ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে মান্দা, সাপাহার ও বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল বেশি। মান্দায় ১ হাজার ৭২৯ জন, সাপাহারে ১ হাজার ৪১১ জন এবং বদলগাছীতে ১ হাজার ৩৪৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এসব রোগী সর্বনিম্ন ছয় ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ দুদিন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে। এটা চার মাসের হিসাব হলেও এপ্রিলে গরম পড়ার পর রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চলতি মাসে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার এসব সরকারি হাসপাতালে আরও ৪৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য হাসপাতালগুলোতে আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এপ্রিলে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ১৮ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়।
প্রচণ্ড দাবদাহে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সী রোগীরা প্রতিদিন নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শিশুরা ডায়রিয়া ও সর্দি-জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আর বয়স্ক লোকজন শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে বেশি আসছেন বলে সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আনজুমান আরা বলেন, সাধারণত গড়ে প্রতিদিন ১৪-১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। সে তুলনায় গত মাসে গড়ে প্রতিদিন ২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এই সংখ্যা একটু অস্বাভাবিক। প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
সিভিল সার্জন এ কে এম মোজাহার হোসেন বলেন, ‘গরমের সময় সাধারণত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে। চার মাসে ১২ হাজার ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া একটু অস্বাভাবিক। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ সেই পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দিয়েছে। জেলার কোনো হাসপাতালেই ডায়রিয়ায় কারও মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিটি হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা সেল করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইভি স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন