কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের গয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দাদের চলাচলের পথে পড়ে পাহাড়ি ছড়া। নড়বড়ে সাঁকো পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাঁদের। স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছর নিজেদের টাকায় সাঁকো মেরামত করছেন তাঁরা। একটি পাকা সেতু গ্রামবাসীর দাবি হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন।
সম্প্রতি গয়ালমারা গিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ি বাঁশের সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে গেছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা হেলে–দুলে পার হচ্ছে সাঁকো। কথা হয়ে সাঁকো পার হয়ে আসা গয়ালমারা এবতেদায়ী মাদ্রাসার ছাত্র তৌহিদুল আলমের সঙ্গে। সে বলে, শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে সাঁকো দিয়ে চলাচল করা যায় না। সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
গয়ালমারা গ্রামের লোকজন জানান, প্রতি বর্ষায় সাঁকোটি পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেসে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন তাঁরা। গত বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে সাঁকোটি তলিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন ফের চাঁদা তুলে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এই অবস্থা চলছে স্বাধীনতার পর থেকেই।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর উদ্দিন (৪২) বলেন, ছেলেমেয়েরা বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যায়। বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। পিলার দিয়ে একটি পাকা সাঁকো নির্মাণ করলে এলাকার লোকজন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারত।
জানতে চাইলে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বলেন, গয়ালমারা ছড়ার ওপর একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. আমিন উল্লাহ বলেন, ‘সরকারি অনুদানে সেতু বানাতে স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন করতে পারেন। এর পরও বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।’

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন