গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে একটি খাল। খালের ওপর নির্মিত নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে যাতায়াত করে গ্রামের পাঁচ হাজার মানুষ। নড়বড়ে ওই সাঁকোর ওপর থেকে পড়ে গিয়ে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু বিকল্প রাস্তা না থাকায় এলাকার লোকজনকে বাধ্য হয়ে ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
একটি সেতুর জন্য এভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রামের লোকজন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মদনাহাট খালের ওপর নির্মিত সাঁকোর ওপর একাধিক মানুষ উঠলে সেটি দুলতে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালের দুই পাড়ে কমপক্ষে ৫০০ পরিবারের বসবাস। ওই এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। প্রতিবছর বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে খালের পাড় ধসে যায়। এতে সাঁকোর দুই প্রান্তের মাটিও সরে যায়। ফলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। মাটি সরে গেলে গ্রামের লোকজন চাঁদা তুলে মাটি ভরাট করেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত বছর এই সাঁকো থেকে পড়ে মারা গেছেন বানু বালা দাশ নামের এক নারী। সাঁকো থেকে পড়ে হাত-পা ভেঙেছে আরও বেশ কয়েকজনের।
জেলেপাড়ার সরদার জগদীশ দাস (৬৫) বলেন, ৪২ বছর আগে তাঁদের সন্দ্বীপের ভিটেবাড়ি সাগরে বিলীন হয়। তারপর এই গ্রামেই ঘর বাঁধেন। তখন থেকেই এই সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। নির্বাচিত সব জনপ্রতিনিধির কাছেই তাঁরা ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু আজ অবধি খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রঞ্জিত দাশ বলেন, ভোটের আগে সব প্রার্থীই বলেন, নির্বাচিত হলে সেতু নির্মাণ করে দেবেন। এর মধ্যে কত নির্বাচনই হয়ে গেল, কিন্তু সেতু আর হলো না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলম বলেন, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানে একটি সেতু তৈরি করে দেবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন