কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকার বন্দী শাহী ঘাটে গোমতী নদীর ওপর কাঠ-বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে হেঁটে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। নড়বড়ে ওই সাঁকো দিয়ে আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের বাসিন্দারা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে থাকে।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে অন্তত ১০ জন গ্রামবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গোলাবাড়ি এলাকাটি ভারতীয় সীমান্তবর্তী। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সোনামুড়া মহকুমা থেকে উৎপত্তি হয়ে গোমতী নদী বাংলাদেশের ওই এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দাউদকান্দির মেঘনা নদীতে গিয়ে মিলেছে। গোলাবাড়ি এলাকার ওই স্থানে বন্দী শাহী ঘাট ছিল। একসময়ের খরস্রোতা ওই নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় তিন বছর আগে সেখানে গ্রামবাসী মিলে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করেন। এর দৈর্ঘ্য ২৫০ ফুট, প্রস্থ ৬ ফুট ও উচ্চতা ২০ ফুট। বাঁশের খুঁটির ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। নড়বড়ে ওই সাঁকোর ওপর দিয়ে নদীর দুই পারের কৃষকেরা কৃষিপণ্য কুমিল্লা শহরে নিয়ে যান। এ ছাড়া ভারত থেকে আসা আনারস, কাঁঠাল ও অন্যান্য ফল এখান দিয়ে সাইকেলে করে কুমিল্লার জেলখানা সড়কে এনে বিক্রি করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এ কারণে সাঁকোর ওপর দিয়ে খালি যানবাহন নিয়ে হেঁটে যেতে হয়।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনের সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন গত বছরের ১৩ আগস্ট এখানে সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও) দেন।
জানতে চাইলে আদর্শ সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকার বলেন, গোলাবাড়ি এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য গত বছরের ২৭ আগস্ট জরিপ ও কারিগরি প্রতিবেদন এলজিইডির ঢাকা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ করা হলে ওই এলাকার অর্ধলাখ বাসিন্দা ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবে।
গোলাবাড়ি গ্রামের হাবিল সরকার ও শাহাপুর গ্রামের মনির হোসেন বলেন, ‘সাঁকোটি প্রায়ই মেরামত করতে হয়। এ জন্য যাত্রী পারাপারের জন্য পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়। তবে খালি রিকশা পার হতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল পার হতে ১০ টাকা লাগে। তবে সাইকেলের জন্য কোনো টাকা লাগে না। আমরা এখানে পাকা সেতু চাই।’
গোলাবাড়ি এলাকার দেলোয়ার হোসেন বলেন, এখানে স্থায়ী সেতু হওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানুষ কষ্ট করে এখান দিয়ে যাতায়াত করে।
উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, সাঁকোর দক্ষিণ পাড়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রাম। উত্তর পাড়ে পাঁচথুবী ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রাম। প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে গোলাবাড়ি, কেরানিনগর, ঝারখণ্ডল, বাড়াইপুর, চাওয়ালপুর, শাহাপুর, ধর্মনগর, বিবিরবাজার, অরণ্যপুর ও ঝাকুনিপাড়াসহ অন্তত ২০ গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। দ্রুত সেখানে সেতু হওয়া দরকার।
আ ক ম বাহাউদ্দিন বলেন, ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশের বিবিরবাজার স্থলবন্দর রয়েছে। এখানে সেতু হলে এলাকাবাসীর উপকারের পাশাপাশি স্থলবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন