default-image

আকাশে মেঘ গুরুগুরু। হঠাৎ মুখ ভার করে ঝমঝমিয়ে নামছে বৃষ্টি। আবার কখনো ভাপসা গরম। ঈদে যে এবার শ্রাবণে—এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ফলে আরামদায়ক পোশাকে সবার নজর এবার। তাই বলে ফ্যাশনেবল হবে না তা কিন্তু নয়। প্যাটার্ন ও নকশাকে গুরুত্ব দিয়ে পছন্দসই পোশাক খঁুজছেন ক্রেতারা।
পোশাকের প্যাটার্নে কাটাছেঁড়া যেন চলছেই। ঐতিহ্য আর আধুনিকতাকে এক টেবিলে জোড়া লাগিয়ে পোশাকে নতুনত্ব এনেছেন ডিজাইনাররা। ধরুন মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ। কয়েক বছর আগে ছিল খাটো কামিজ সঙ্গে চুড়িদার সালোয়ার। ধীরে ধীরে কামিজের ঝুল নামতে লাগল। শেষে একেবারে নেমে গেল পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত। নাম হলো ফ্লোরটাচ। এ পর্যন্ত ছিল গতবারের চল। এবার তো ফ্লোরটাচকে টপকে গেল গাউন। পাশ্চাত্যের এই পোশাক যেন মানিয়ে গেল আমাদের আটপৌরে জীবনেও!

default-image


আর পাঞ্জাবি? লম্বা থেকে খাটো। বছর খানেক চলল খাটো–লম্বার মাঝামাঝি। এবার তা এসে ঠেকল লম্বাতে, সঙ্গে নতুন অনুষঙ্গ কটি। এদিকে উৎসবে নারীর প্রধান পোশাক শাড়িতেও আগের মতো ভারী কাজ চোখে পড়ে না। জমিনে হালকা কাজ। পাড়ে নজর কাড়া নকশা। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে শাড়িতে একেবারে কাজ নেই বললেই চলে, তবে ব্লাউজ বাহারি।
ফ্যাশন ডিজাইনার ও শৈল্পিকের কর্ণধার এইচ এম ইলিয়াস বলেন, ‘পরিবর্তনের এই ধারা চলবে। সময়ের সঙ্গে বদলাবে ট্রেন্ড। দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোকে প্রতিবছর বড় প্রতিযোগিতায় নামতে হয় বিদেশি পোশাকের সঙ্গে। সে ক্ষেত্রে হালফ্যাশন মাথায় রাখতে হয়। আর সেখান থেকে প্যাটার্ন ও নকশার পরিবর্তন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, আমাদের ক্রেতারা অতি মাত্রায় ফ্যাশন–সচেতন, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা। তাঁরা স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেটের বদৌলতে পরিচিত হচ্ছেন বিশ্ব ফ্যাশনের সঙ্গে। মানসিকতাও গড়ে উঠছে সেভাবে। তাঁদের সেই ধারা যদি ধরা না যায়, তাহলে তো দেশি হাউস পিছিয়ে পড়বে। সুতরাং পরিবর্তন অনিবার্য।’

default-image


বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও বিপণিবিতান ঘুরে দেখা গেল, বর্ষার কথা মাথায় রেখে পোশাকের নকশা করেছেন ডিজাইনাররা। কাপড় হিসেবে বেছে নিয়েছেন সুতি ও সিল্ক। প্রাধান্য পেয়েছে আরামের বিষয়টি। মেয়েদের পোশাকে ভারী কাজ নেই। হালকা কাজের সালোয়ার-কামিজ ও শাড়ি নজর কাড়ছে। রঙের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে হালকা হলুদ, চাপা সাদা, নীল, ম্যাজেন্টা, বেগুনি প্রভৃতি। শাড়িতে জমিনের চেয়ে পাড়ে রকমারি নকশা চোখ ধাঁধাচ্ছে। কিছু শাড়ির পাড়ে টাসেলের ব্যবহারও রয়েছে। তা ছাড়া বাহারি ব্লাউজ তো আছেই। সালোয়ার-কামিজের কাটে ভিন্নতা এসেছে। সামনে একটু উঁচু, পেছনে নিচু। আবার আনারকলি বা সোজা কাটের কামিজ ও ফ্লোরটাচও আছে। এর সঙ্গে চলছে ডিভাইডার ও পালাজ্জো। এবার যোগ হয়েছে নানা ডিজাইনের গাউন। তরুণীরা রাতের অনুষ্ঠানের জন্য গাউনই পছন্দ করছেন।
ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও হালকা রঙের ব্যবহার দেখা গেছে—হলুদ, হালকা নীল, সাদা, ছাই ও হালকা বেগুনি। কাপড়ও সুতি, সিল্ক, ভয়েল ও অ্যান্ডি। গরম হলেও এবার নতুন করে যোগ হয়েছে কটি। নানা ডিজাইনের কটি চলছে বেশ।

default-image


ফ্যাশন ডিজাইনার ও ডলস হাউসের কর্ণধার আইভি হাসান বলেন, বর্ষায় ঈদ। দিনের পোশাক হতে হবে আরামদায়ক। সে ক্ষেত্রে সুতির পোশাকই জুতসই। রাতে কিংবা পার্টিতে ছেলেরা সিল্কের পাঞ্জাবি, মেয়েরা জামদানি ও মসলিনের হালকা কাজের শাড়ি পরলে ভালো লাগবে। সালোয়ার-কামিজ ও গাউন তো থাকলই।

default-image
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0