বগুড়ায় বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ১০ বছরের এক মেয়ে ও গাইবান্ধায় মায়ের আছাড়ে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুরের বিরামপুরে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ধামাচাপা দিতে তাঁর স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে এক লাখ টাকায় আপস হয়েছে। কুড়িগ্রামে প্রতিপক্ষের কোদালের কোপে মারা গেছেন আরও এক ব্যক্তি। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ:
ঘুমন্ত মেয়ে খুন: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের বড়নগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে গত সোমবার বাবার পাশে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় লিমি আক্তার (১০) নামের এক শিশু খুন হয়েছে। তার বাবার নাম শাহিনুর রহমান (৪৫)। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
লিমির বাবা শাহিনুর দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী এক আত্মীয়র বাড়িতে গেলে সোমবার রাত নয়টার দিকে তিনি মেয়েকে নিয়ে একই খাটে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড়টার দিকে লেপে টান অনুভব করে উঠে বসতেই দেখেন, মাফলারে মুখ বাঁধা চারজন দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তখন খাটে মেয়ের নিথর দেহ পড়ে ছিল। জমি নিয়ে শাহিনুরের সঙ্গে এলাকার দুজনের বিরোধ আছে। তারাই শিশুটিকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে শাহিনুর অভিযোগ করেন। থানার ওসি আবদুল মান্নান জানান, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আছড়ে মারা হলো নবজাতককে: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিশ্বাস হলদিয়া গ্রামে গত সোমবার রাতে সুমাইয়া আকতার (১৪ দিন) নামের এক নবজাতককে হত্যা করেছেন তারই মা। এলাকাবাসী জানান, দেড় বছর আগে হলদিয়া গ্রামের শাহিন মিয়ার সঙ্গে পাশের বালুসার বাজার গ্রামের আবদুল জলিলের মেয়ে সুমি আক্তারের (২০) বিয়ে হয়। সোমবার রাতে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ক্ষুব্ধ সুমি সুমাইয়াকে উঠানে আছাড় মারেন। গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। এ ঘটনায় শাশুড়ি জামিরন বেগমের দায়ের করা হত্যা মামলায় গতকাল সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লাখ টাকায় আপস: দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর (কাচারি) মহল্লায় কৃষ্ণা রানী (২৪) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিহতের স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে টাকার বিনিময়ে আপস হয়েছে। নিহতের স্বামী উৎপল চন্দ্র জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে গত সোমবার রাতে কৃষ্ণা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়নায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। স্থানীয় দাউদপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল হালিম সরকারের মধ্যস্থতায় এ আপস হয়। কৃষ্ণার বড় ভাই কৃষ্ণ কুমার বিশ্বাস অবশ্য জানান, এক লাখ টাকায় আপসের কথা হলেও চূড়ান্ত হয়নি। তবে চেয়ারম্যান হালিম এ বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবদুল্লাহ আল সাইদ জানান, প্রাথমিক সুরতহালে আত্মহত্যার কোনো আলমত ছিল না। তাই ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কুপিয়ে খুন: কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত সাহাবর আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। উপজেলার চরসিতাইঝাড় গ্রামের সাহাবর আলীর সঙ্গে খলিলুর রহমানের (৫৫) জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার সাহাবর বিরোধপূর্ণ জমিতে গেলে খলিলের লোকজনের কোদালের আঘাতে গুরুতর আহত হন। তাঁকে প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে রংপুর ডক্টরস হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে গত সোমবার রাতে মারা যান সাহাবর।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আজিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন