বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কলাকেন্দ্রের পরিচালক শিল্পী ওয়াকিলুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে কলাতাত্ত্বিক মইনুদ্দীন খালেদ বলেন, ‘নভেরা আহমেদের মতো এত আলোচনা-সমালোচনা আমাদের দেশের আর কোনো শিল্পীকে নিয়ে হয়নি। দেশের প্রথম দিকের শিল্পসমালোচকেরা তাঁর কাজকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি। তিনি পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার হয়েছেন, এটা মানতে হবে।’

নভেরার শিল্পকর্মের বিশ্লেষণ করে মইনুদ্দীন খালেদ বলেন, অনেকেই নভেরার কাজে হেনরি মুরের প্রভাবের কথা বলে থাকেন। কিন্তু একেবারে স্বতন্ত্র বলে কিছু নেই। পৃথিবীর সব সৃজনশীল কাজেই পূর্ববর্তী কাজের ধারাবাহিকতার প্রভাব থেকে যায়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, নভেরা তাঁর কাজে নিজের বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলেছিলেন। নভেরার মাতৃভাবনা তাঁর নিজস্ব ভাবনার বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। কোমল–সুডৌল গড়ন, সাদা সিমেন্টের কমনীয়তা, বিমূর্ততা—এসব নানান প্রকরণগত দিক থেকে বিচার করলে নভেরার কাজকে মৌলিক বলতে হবে।

বই সম্পর্কে মইনুদ্দীন খালেদ বলেন, নভেরার শিল্পের বৈশিষ্ট্যকে নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার চেষ্টা করেছেন লেখক। নভেরাকে জানতে আগ্রহী পাঠকদের বইটি সহায়ক হবে।

ভাস্কর ও লেখক শিবু কুমার শীল আলোচনায় উল্লেখ করেন, শহীদ মিনারের নকশায় নভেরার অবদান থেকে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে, এসব নিয়েই আলোচনা চলে। তবে এখন সময় এসেছে তাঁর কাজের বিশ্লেষণ করে নতুন আরেক ধারার আলোচনার সূচনা করা। তিনি বলেন, ‘অনেকে নভেরার কাজে ইউরোপীয় শিল্পীদের প্রভাবের কথা বলেন। কিন্তু তাঁর কাজে বেশি আছে আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী টেপাপুতুলের আঙ্গিকগত প্রভাব। এসব দিক তুলে ধরা প্রয়োজন।’

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান তাঁর আলোচনায় গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের আন্দোলন–সংগ্রামে শিল্পীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, শিল্প-সংস্কৃতির আন্দোলন মিলেমিশে এক বিশাল গণ-আন্দোলন সম্ভব হয়েছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি মুক্তিযুদ্ধ। সেই প্রেক্ষাপটে নভেরার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নভেরা তাঁর বিবেচনায় কেবল নারী ভাস্কর হিসেবে নন, নারী-পুরুষ মিলিয়েই দেশের প্রধান ভাস্কর। যতই দিন যাচ্ছে, ততই নভেরার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ছে।

দৃষ্টান্ত হিসেবে মতিউর রহমান মেক্সিকোর শিল্পী ফ্রিদা কাহালোর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সেই সময় শিল্পচর্চা, জীবনযাপন, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম—সব মিলিয়ে ভাস্কর নভেরা ছিলেন এক সাহসী ব্যক্তিত্ব। সাধারণ জীবযাত্রার সঙ্গে তাঁকে মেলানো যায় না। শিকোয়া নাজনীন নভেরার এই জীবনকে তাঁর বইয়ে তুলে ধরেছেন।

পরে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন নভেরা বিষয়ে গবেষক রেজাউল করিম, আলোকচিত্রী আমিরুল রাজীব, জেন্ডারবিষয়ক কাজে যুক্ত ইমতিয়াজ পারভেজ।

শেষে লেখক শিকোয়া নাজনীন তাঁর বই সম্পর্কে বলেন, নভেরাকে তিনি পাঠকের কাছে সহজবোধ্যভাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তথ্যের ওপর বিশেষ প্রাধান্য না দিয়ে ভাষার গতিময়তা এবং মানুষ ও শিল্পী নভেরাকে যেন পাঠক বুঝতে পারেন, সেই চেষ্টা করেছেন। তিনি নিজে নভেরা সম্পর্কে বিশেষ মন্তব্য করতে চাননি। লেখক আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে সমালোচকেরা নভেরাকে নিয়ে পক্ষে–বিপক্ষে যে মন্তব্যগুলো করেছেন, তিনি তা তুলে ধরেছেন। এ থেকে পাঠকেরা নিজেরাই তাঁদের মূল্যায়ন করে নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন