default-image

ব্যবসা ও সংযুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের সম্পর্কে আরও গতি আনতে চায়। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশেষ জোর দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতও বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতায় রাজি আছে।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো প্রথম আলোকে জানিয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গত শনিবারের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানো ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেন। দুই শীর্ষ নেতার আলোচনার পর শনিবার রাতে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতেও বিষয়টি প্রতিফলিত হয়।

দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবারের সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সহযোগিতায় আরও গতি আনতে বিদ্যমান বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সহায়তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে জোর দেন। ভারত বাংলাদেশের পরিকল্পনায় থাকা দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যুক্ত থাকতে চায় বলে সূত্রটি জানায়।

দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় সম্পর্কের ভবিষ্যতের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান যে জরুরি, তা-ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। এক দশক ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধানে ভারতের সক্রিয় ভূমিকাও প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ। যৌথ ঘোষণায় অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্য, সংযুক্তি আর বিদ্যুতের মতো সহযোগিতার নিয়মিত বিষয়গুলোতে দুই পক্ষের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। ৬২ অনুচ্ছেদের ওই ঘোষণায় রোহিঙ্গা সংকটের মতো আঞ্চলিক সমস্যার প্রসঙ্গটিও তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ

নরেন্দ্র মোদির সফরে বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সইয়ের লক্ষ্যে দ্রুত যৌথ সমীক্ষা শেষ করার ওপর জোর দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্ক বন্দরগুলো জরুরি ভিত্তিতে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসার পথ সুগম করার উদ্দেশ্যে দুই দেশ একে অন্যের পণ্যের মান সমন্বিতকরণের অংশ হিসেবে মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই ও বিআইএসের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে রাজি হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশ নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় জোর দিয়েছে। এ জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ-বাণিজ্য চালুর লক্ষ্যে উপ-আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সংযুক্তি

নরেন্দ্র মোদির সফরকালে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় (ভারত-মিয়ানমার-থাইল্যান্ড) মহাসড়কে যুক্ত হতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে। এ প্রসঙ্গে দিল্লির একটি কূটনৈতিক সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ওই মহাসড়কের ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১৬০ কিলোমিটার পড়েছে মিয়ানমারে। চলতি মার্চের শুরুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকা সফরকালে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত বাংলাদেশের পক্ষে অনুরোধ জানাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উচিত হবে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করা।

উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত এরই মধ্যে একটি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। নেপাল ও ভুটানে যেতে বাংলাদেশকে বিনা মাশুলে ট্রানজিট দিয়েছে। দুই দেশের নেতারা আঞ্চলিক সংযুক্তির জন্য বিবিআইএন বা বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল মোটরযান চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পণ্য ও যাত্রী চলাচলে প্রাথমিকভাবে রাজি হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যতের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো মো. শহীদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, নতুন পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে সম্পর্ককে ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে। সীমান্ত মানেই শুধু নিরাপত্তা নয়। সীমান্ত যে মানুষের উন্নয়নের জন্য, সেটা নিশ্চিতের জন্য জোর দিতে হবে। যৌথ যেসব প্রকল্প হবে, তাতে যেন জনগণ সরাসরি উপকৃত হয়। তা না হলে এর চূড়ান্ত সাফল্য আসবে না। তিনি বলেন, মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানো বলতে শুধু ভিসা সহজ করা নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন