default-image

প্রতিষ্ঠার নয় বছর পেরিয়ে গেলেও ধুঁকে ধুঁকে চলছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কার্যক্রম। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে গবেষণাগারের জন্য কেনা প্রায় ১৬ কোটি টাকার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। এখনো নিয়োগ হয়নি স্থায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ৬ অক্টোবর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান আট একর জায়গার ওপর আলুরতল এলাকায় কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর দ্রুতই অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের অধীনে কলেজটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।
শুরু থেকেই কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং—এ তিনটি বিভাগ চালু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী অবকাঠামো ও গবেষণাগার তৈরি করা হয়। কিন্তু সেটি না হয়ে এখন শুধু কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু আছে। বর্তমানে এ বিভাগের চার শিক্ষাবর্ষে মোট ২৪০ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছেন।
এদিকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু না হলেও এ দুটি বিভাগের জন্য ১৬টি করে সর্বমোট ৩২টি অত্যাধুনিক গবেষণাগার তৈরি করা হয়। চালুর পরপর সেগুলোতে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় নানা যন্ত্রপাতি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় এসব যন্ত্রপাতির ৮০ শতাংশই নষ্ট হয়ে পড়েছে বলে জানান কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, যন্ত্রপাতিগুলো অব্যবহৃত থাকায় মাকড়সা, উইপোকা, তেলাপোকাসহ নানা ধরনের কীটপতঙ্গ বাসা বেঁধেছে। সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ থাকায় প্রতিটি কক্ষে উৎকট দুর্গন্ধ। লেদ মেশিন, মাইলিং মেশিন, কম্পিউটারসহ অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এক বছর আগে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের ১৬টি মোটর ল্যাব থেকে চুরি হয়ে গেছে। তবে সিভিল বিভাগে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। এতে করে এ বিভাগের গবেষণারগুলো চালুরও একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ইমরুল কায়েস ও শিপু কুমার দাশ অভিযোগ করেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও এত অত্যাধুনিক ল্যাব নেই। অথচ অযত্ন-অবহেলায় গবেষণাগারের সব সামগ্রীই নষ্ট হতে চলেছে।
নয় বছর পার হওয়ার পরও কলেজটিতে স্থায়ী লোকবল নিয়োগ হয়নি। তিনজন শিক্ষক, একজন কর্মকর্তা, দুজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং পাঁচজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে চলছে কলেজটি। এঁদের প্রত্যেকেই এখানে প্রেষণে নিযুক্ত রয়েছেন। এর বাইরে কলেজে ১৫ থেকে ২০ জন অতিথি শিক্ষক সাময়িকভাবে নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
প্রেষণে নিযুক্ত কলেজের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সেলিম জানান, ২০০৫ সালে তৎকালীন সরকার সারা দেশে বেশ কয়েকটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু করলেও এগুলোতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত কোনো বিধিমালা তৈরি করে দেয়নি। এ কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে স্থায়ী কোনো জনবল নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রেষণে নিযুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ সুশান্ত কুমার বসু বলেন, নিয়োগ বিধি চূড়ান্ত হওয়া সর্বশেষ ধাপে রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই নীতিমালাটি অনুমোদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি হলে কলেজটি সব ধরনের সমস্যা কাটিয়ে উঠবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন