বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল রাতে নাতনি বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী শেহেরীনকে চোখের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান নানা হাজী জামাল। সঙ্গে ছিলেন শেহেরীনের মামা মো. জাকির হোসেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চশমা কিনে বাসায় ফিরছিলেন তিনজন। এ সময় আগ্রাবাদের মাজার গেট এলাকায় ফুটপাত থেকে পা পিছলে নালায় পড়ে যান শেহেরীন। মামা ও নানা লাফ দিয়েও তাঁকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাত তিনটায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন।

default-image

নগরের বড়পোলের মইন্যাপাড়ায় প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর বাড়ি। তাঁর দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় শেহেরীন। সাততলা ভবনের দোতলায় সুখের সংসার মোহাম্মদ আলী-শেলী আক্তারের। কিন্তু গতকাল রাত থেকে সেখানে রাজ্যের বিষণ্নতা ভর করেছে। ভেসে আসছে আহাজারি আর বিলাপের শব্দ। সন্তান হারানোর শোক স্পর্শ করেছে পাড়া–প্রতিবেশীদেরও।

আজ সকালে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়। শেহেরীনের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে হাজির হন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন।
একটি কক্ষে বসেছিলেন নানা হাজী জামাল। সঙ্গে ছিলেন শেহেরীনের বাবা মোহাম্মদ আলী ও অন্যরা। হাজী জামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্বপ্নেও ভাবিনি এ রকম ঘটনা ঘটবে। নাতনিকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পানির স্রোতের জন্য কিছুই করতে পারিনি।’

বলতে বলতে আবার আহাজারি শুরু করেন হাজী জামাল। তাঁর কান্না শুনে পাশের কক্ষ থেকে ছুটে আসেন ছেলে জাকির হোসেন। নাতনিকে হারিয়ে বিপর্যস্ত এই বৃদ্ধ ছেলেকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, ‘অ বাপ, আমারে কেন ডেকে নিয়ে গেলি? আমার ভাগ্য কেন এমন হলো? আমি এই দুঃখ ভুলব কী করে?’

ভাগনি হারানোর শোক অনেকটাই ক্ষোভে পরিণত হয়েছে মামা জাকির হোসেনের। সেবা সংস্থাগুলোর কাজে অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। একটি নালা খোলা পড়ে আছে। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। একটা নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকলে আজ ভাগনি বেঁচে যেত।

পড়াশোনা শেষ করে শেহেরীনের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল বলে জানান বাবা মোহাম্মদ আলী। কিন্তু মেয়েকে হারিয়ে তাঁর স্বপ্নও মলিন হয়ে পড়েছে।

নাতনিকে বাঁচাতে নালায় লাফ দিয়েছিলেন বৃদ্ধ হাজী জামাল। পেট ও পায়ের আঘাতের চিহ্ন দেখাচ্ছিলেন তিনি। আর বারবার বিলাপ করছিলেন প্রিয় শেহেরীনের জন্য। শরীরের এই ব্যথা হয়তো মুছে যাবে, কিন্তু নাতনিকে হারানোর মনের ক্ষত কি মুছতে পারবেন এই বৃদ্ধ!

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন