default-image

নাফিস বিন জাফর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানিত পদক অস্কার পাওয়ায় গতকাল রোববার রাজবাড়ীতে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত ওই শোভাযাত্রায় নাফিসের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে দুপুরে র্যা লিটি বের করা হয়। র্যা লি শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী ডিবেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেজবাহ উল করিমের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ খালেক, নাফিসের আত্মীয় কাজী আবু মাসুদ প্রমুখ।
বাংলাদেশ সময় রোববার বিকেলে অস্কার গ্রহণ করেন বাংলাদেশি তরুণ প্রকৌশলী নাফিস বিন জাফর। তাঁর পৈতৃক বাড়ি রাজবাড়ী শহরের কাজীকান্দায়। হলিউডের ২০১২ সিনেমার জন্য এবার অস্কার পেলেন নাফিস। তাঁকে ড্রপ ডিস্ট্রাকশন টুলসের জন্য ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। নিজের তৈরি এ প্রযুক্তি নাফিস ২০০৯ সালে প্রথম ব্যবহার করেন। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো অস্কার পান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্যাটাগরিতে তাঁকে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়।
নাফিজের চাচা কাজী আবু মাজেদ জানান, নাফিস পরিবারের সঙ্গে ১৯৮৯ সালে ১১ বছর বয়সে আমেরিকায় যান। সেখানে কলেজ অব চালুসট থেকে সফটওয়্যার প্রকৌশল শাখায় স্নাতক ডিগ্রি নেন। এরপর সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলাইনায়। দুই বছর পর চলে যান স্পেশাল ইফেক্ট তৈরির জন্য জেমস ক্যামেরনের ডিজিটাল ডোমেইনে। ২০০০ সাল থেকে যুক্ত হন সিনেমা জগতে। বর্তমানে তিনি সাংহাইয়ে একটি এমিনেশন ওয়ার্কসের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে বেড়ে উঠেছেন নাফিস বিন জাফর। তাঁর মামা একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন (জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি। তাঁর নানা বিখ্যাত পাপেট শিল্পী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার, তাঁর মায়ের নানা কবি গোলাম মোস্তফা এবং দাদা কবি সৈয়দ এমদাদ আলী।
প্রথমবার অস্কার পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি মায়ের সঙ্গে রাজবাড়ী এসেছিলেন নাফিস। এবার মার্চ মাসেও তাঁর রাজবাড়ী আসার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন