default-image

চট্টগ্রামে নামের মিল থাকায় এক নারীর সাজা খাটছেন আরেক নারী। ১৬ মাস ধরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নগরের কর্ণফুলী থানার একটি মাদক মামলায় সাজা খাটছেন হাসিনা বেগম নামের এক নারী। প্রকৃত আসামি হাসিনা আক্তার পলাতক রয়েছেন।

দুজনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। দুজনের স্বামীর নামও হামিদ হোসেন। তবে শ্বশুরের নাম ও বাড়ির ঠিকানায় আলাদা। হাসিনা বেগমের শ্বশুরের নাম মৃত কবির আহম্মদ আর হাসিনা আক্তারের শ্বশুরের নাম মৃত জলিল আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত মার্চ মাসে চট্টগ্রাম কারাগারে একজনের সাজা আরেকজন খাটার ঘটনা জানাজানি হয়। খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কুলসুমা আক্তার তাঁর জায়গায় তিন বছর ধরে সেই সাজা খাটছেন মিনু আক্তার।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নগরের কর্ণফুলী থানার মইজ্জারটেক এলাকায় ২ হাজার ইয়াবা বড়ি নিয়ে স্বামী ও দুই সন্তান মো. আনিস, নুর ফাতেমাসহ গ্রেপ্তার হন ২৭ বছরের হাসিনা আক্তার। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। তদন্ত শেষে হাসিনা ও তাঁর স্বামী হামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

ওই বছরের ২৭ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। পরে পলাতক হয়ে যান। আসামিরা পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ১ জুলাই পঞ্চম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ হাসিনা ও তাঁর স্বামী হামিদকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে তাঁদের সাজা পরোয়ানাগুলো আদালত থেকে টেকনাফ থানায় যায়।

থানা-পুলিশ সাজা পরোয়ানায় ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর টেকনাফ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাঈল হাজিবাড়ির হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। কিন্তু প্রকৃত আসামি একই এলাকার চৌধুরীপাড়ার হাসিনা আক্তার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

এদিকে কারাগারে থাকা হাসিনা বেগম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁর স্বামী হামিদ পরিবার ছেড়ে চলে যান। তাঁর দুই মেয়েকে দেখাশোনা করছেন শাশুড়ি হাজরা খাতুন। বড় ছেলে শামীম নেওয়াজ চট্টগ্রাম শহরে এক ব্যক্তির বাসায় কাজ নেন। ওই বাসার গৃহকর্তার মাধ্যমে একজনের সাজা আরেকজন খাটার বিষয়টি জানতে পারেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম মুরাদ। এরপর তিনি সবকিছু যাচাইবাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২২ মার্চ আদালতে হাসিনা বেগমের মুক্তির জন্য আবেদন করেন। আদালত টেকনাফ থানা-পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত শেষে টেকনাফ থানার পরিদর্শক (অভিযান) খোরশেদ আলম আদালতে প্রতিবেদন দেন গত বৃহস্পতিবার। সেখানে বলা হয়, প্রকৃত আসামি হাসিনা আক্তার। তাঁর পরিবর্তে জেলে আছেন হাসিনা আক্তার। দুজনের স্বামীর নাম মিল থাকলেও শ্বশুরের নামের পার্থক্য রয়েছে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।

হাসিনা বেগমকে আইনি সহায়তা করা আইনজীবী গোলাম মুরাদ প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের প্রতিবেদনটিসহ আজ রোববার চতুর্থ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। আদালত চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া হাসিনা আক্তারের আর তাঁর পরিবর্তে গ্রেপ্তার হওয়া হাসিনা বেগমের ছবির মিল আছে কি না, কারা নিবন্ধন যাচাইবাছাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। আগামী মঙ্গলবার প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য রেখেছেন। প্রকৃত আসামিকে না ধরে নিরীহ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হবে ওই দিন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, দুজনের ছবির মধ্যে মিল নেই। আরও যাচাইবাছাই করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সাজা ভোগ করা হাসিনা বেগমের ছেলে শামীম নেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা গ্রেপ্তার হলে বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যায়। দুই বোন নানির কাছে। আমি মানুষের বাসায় কাজ করি। আমার মাকে মুক্তি দিয়ে আমাদের পরিবারটি রক্ষা করা হোক।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন