বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। গতকাল দুপুরের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার দিন রাতে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে তিনজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া গতকাল ফায়ার সার্ভিস ৪৯ জনের লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, একের পর এক অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবহেলায় আটকে পড়া শ্রমিকদের মৃত্যুর দায় মালিকপক্ষ এড়াতে পারে না। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি চেয়েছে কমিশন।
বিবৃতিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট বলেছে, করোনার কারণে চলমান কঠোর বিধিনিষেধের সময় কারখানা চালু রেখে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কিন্তু তাঁদের জীবনের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জের ঘটনাটিকে মালিক-সরকারের গাফিলতিজনিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে বাম জোট বলেছে, অতীতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় মালিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বারবার শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটছে। সংগঠনটি নিহত ব্যক্তিদের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।

শ্রমিকের নিরাপদ কর্মক্ষেত্র ও সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। নারায়ণগঞ্জের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সংগঠনটি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
খেলাফত মজলিস বলেছে, কারাখানাটিতে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শিশুদের অনিরাপদ পরিবেশে কাজে লাগানো হয়েছে। সরকারের নজরদারির অবহেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) অভিযোগ, প্রায়ই এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বহু শ্রমিক মারা যাচ্ছেন এবং দায়সারা তদন্ত হয়। কিন্তু শাস্তি হয় না।
কারখানার অব্যবস্থাপনার কারণেই এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ঐক্য ন্যাপ।
এ ঘটনায় আরও বিবৃতি দিয়েছে সিপিবি, বাসদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন, শ্রমিক দল, বাংলাদেশ ন্যাপ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্ট, ছাত্র ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র ও জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন।