বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আমাদের জন্য পীড়াদায়ক, তা হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন করেছি। কিন্তু শুধু আইন করলেই এসব বন্ধ করা যাবে না। এ জন্য মানসিকতাও বদলাতে হবে। চিন্তাচেতনায় পরিবর্তন আনতে হবে। বিশ্বাসটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় জিনিস।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বিশ্বাসটা করতে হবে যে নারীরা কেবল ভোগের বস্তু নয়, নারীরা সহযোদ্ধা। তাঁরা সহযোগী, সহযাত্রায় চলতে হবে, সমান অধিকার দিতে হবে, এটা হচ্ছে বাস্তবতা। সেভাবেই কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ শিক্ষাদীক্ষা-কর্মসংস্থানে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারছেন বলেই তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, সেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই আমাদের দেশের নারী সমাজকে জাগ্রত করতে হবে। কেননা, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী যেখানে নারী, কাজেই তাদের পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটা জাতির পিতা যেমন মনে করতেন, তেমনি বেগম রোকেয়াও তাঁর লেখনীতে বলে গেছেন।’

নারীদের বেশি লেখাপড়া শিখিয়ে কী হবে, তারা তো পরের ঘরে চলে যাবে—এ ধরনের মানসিকতা সমাজে বিদ্যমান ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সে কারণেই জাতির জনকের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁর সরকার নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজকের দিনটি প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বাংলাদেশের অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জন্মদিন উল্লেখ করে তাঁর জন্য সবার কাছে দোয়া চান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, পুতুলের ব্যক্তিগত উদ্যোগেই আজ অটিজমে আক্রান্তরা সমাজের মূলধারার সঙ্গে মিশে যেতে পারছে, স্বীকৃতি পেয়েছে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের কোনো মা-বাবাই লোকলজ্জার ভয়ে এখন আর লুকিয়ে রাখেন না। সেই মানসিকতারও পরিবর্তন এসেছে।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নারীশিক্ষায় অবদান রাখায় কুমিল্লার অধ্যাপক হাসিনা জাকারিয়া, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় যশোরের অর্চনা বিশ্বাস, নারীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখায় কুমিল্লার শামসুন্নাহার রহমান (মরণোত্তর), সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে নারী জাগরণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা এবং পল্লী উন্নয়নে কুষ্টিয়ার গবেষক সারিয়া সুলতানা এ বছরের বেগম রোকেয়া পদক লাভ করেন।

পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে রেপ্লিকাসহ স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থের চেক দেওয়া হয়। পরে বিজয়ীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন অধ্যাপক হাসিনা জাকারিয়া।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন