বিশ্বব্যাপী আন্দোলন ‘উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি’র এবার প্রচারণার প্রতিপাদ্য ‘বিপ্লব’। বিপ্লব মানে চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পরিবর্তন। আগামী শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২০৬টি দেশের নারী-পুরুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অঙ্গীকার করবেন।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। বাংলাদেশে উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য দেন উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি বাংলাদেশের সমন্বয়ক খুশী কবির, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফারাহ কবীর, চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহানারা নূরী, আমেরিকাপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী এবং শিল্পী মনিকা জাহান বোস ও ডেনমার্কপ্রবাসী শিল্পী রুহুল আমিন।
সংবাদ সম্মেলনের মূল বক্তব্য পড়ে শোনান জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ফওজিয়া খোন্দকার। এতে জানানো হয়, শনিবার বিকেল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগে চলবে নারী-পুরুষের সমাবেশ, পথনাটক, রাজপথে চিত্রাংকন (স্ট্রিট পেইন্টিং), ফটোবুথ, প্রদর্শনী এবং আর্ট পারফরম্যান্স। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির জুটি বিতর্ক এবং সন্ধ্যায় থাকবে মশাল মিছিল। এবার এসব বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন্স নেটওয়ার্কের সদস্যরা সম্পৃক্ত থাকবেন। এ ছাড়া একই দিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করবে নানান আনুষ্ঠানিকতা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘উদ্যমে উত্তরণে শতকোটি’ হচ্ছে একটি আন্দোলনের নাম। নারীর ওপর দেশে দেশে বিরাজমান সহিংসতা বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টি ও প্রতিরোধ গড়ার লক্ষ্যে সংগঠিত চলমান আন্দোলন। ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’ নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এটি। ২০১৩ সালে এ আন্দোলনের প্রচারণায় দক্ষিণ এশিয়াসহ গোটা বিশ্ব জেগে ওঠে। বছরটির ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশেরও ৪০০ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০ লাখ নারী-পুরুষ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ আন্দোলনে সদস্য হওয়ার জন্য নেই কোনো আনুষ্ঠানিকতা। নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী যে কেউ নিজেকে এ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফারাহ কবীর বলেন, পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ও গণতন্ত্র একসঙ্গে চলতে পারে না। তাই সেভাবে উত্তরণ হচ্ছে না। এ ছাড়া যেকোনো সহিংসতার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সেভাবে সবাই সোচ্চার হচ্ছে না। এ ধরনের টলারেন্স বা নির্যাতন সহিংসতাকে মেনে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকলে সহিংসতাও বাড়তে থাকবে।
খুশী কবির বলেন, এবার আন্দোলনের সঙ্গে নানান বয়সী পুরুষদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মনিকা জাহান বোস ও রুহুল আমিন জানান, শনিবার প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তাঁরা তাঁদের শিল্পকে ব্যবহার করবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন