চলমান নাশকতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাশকতার ঘটনার বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতে করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ‘মোবাইল কোর্ট (সংশোধন) আইন’-এর খসড়া সারসংক্ষেপ আকারে মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে যে উদ্যোগ নেবে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র আরও জানায়, নাশকতার মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার কার্যক্রম নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব জেলা প্রশাসককে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে হত্যা, ধর্ষণ, আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও মাদকদ্রব্য—এই পাঁচ ধরনের গুরুতর অপরাধের মামলা রুজু হয়ে থাকলে সে বিষয়ে এবং এসব মামলার প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হচ্ছে। এসব মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকলে তার কার্যক্রম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিগত বছরে রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে সংঘটিত মামলার বিচারও দ্রুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জামায়াত-শিবিরের হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের ঘটনায় করা মামলা, হরতাল-অবরোধে যানবাহন ও পথচারীদের ওপর পেট্রলবোমা, গানপাউডারসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে হামলার ঘটনায় করা মামলা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মামলাও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নাশকতার মামলাগুলো বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা তাদের কাছে আসামি ও তার পিতার নাম, মামলার নম্বরসহ কিছু তথ্য-উপাত্ত চেয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সদর দপ্তর, সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপারকে চিঠি পাঠানো হবে। এসব মামলা দ্রুত বিচারের জন্য প্রস্তুত করতে জেলা প্রশাসক ও সরকারি কৌঁসুলিদের সহায়তা চাইব আমরা।’
চট্টগ্রাম, মুন্সিগঞ্জ ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা প্রথম আলোকে জানান, এখনো এমন কোনো চিঠি পাননি। চিঠি পেলে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে এ ধরনের মামলা আলাদা করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল, ২০০২-এর ৬ ধারা অনুযায়ী নাশকতার মধ্যে এই পাঁচ অপরাধ ছাড়া সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার ও অন্যান্য জঘন্য অপরাধের মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে করার আইনগত কোনো সুযোগ না থাকায় ওই আইনের সংশ্লিষ্ট ৬ ধারা সংশোধনের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এ আইন সংশোধনের বিষয়ে আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত জানুয়ারিতে দ্রুততম সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিচার নিশ্চিত করতে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর সংঘটিত অপরাধ দমনসংক্রান্ত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করতে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত কোনো মামলা স্থানান্তরের তারিখ হতে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। অনিবার্য কারণে ওই সময়ের মধ্যে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কারণ লিপিবদ্ধ করে অতিরিক্ত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে পারবেন এবং এ সম্পর্কে আদালতকে লিখিতভাবে অবহিত করা যাবে। এর একটি অনুলিপি সরকারের কাছে পাঠাতে হবে। ওই সময়ের মধ্যেও যদি যুক্তিসংগত কোনো কারণে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হয়, তাহলে ট্রাইব্যুনাল এর কারণ লিপিবদ্ধ করে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য সর্বশেষ আরও ১৫ কার্যদিবস সময় নিতে পারবেন এবং এভাবে সময় বাড়ালে সুপ্রিম কোর্টকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে। এর একটি অনুলিপি সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন