default-image

প্রকৃতি থেকেই তাঁর শিল্পের রসদ সংগ্রহ করেন আখতার আহমেদ রাশা। শুকনো এক টুকরো কাঠ, কোনো গাছের গুঁড়ি অথবা সামান্য কোনো বাকল। রাশার হাতে তা হয়ে ওঠে বাদল দিনে বালক-বালিকার আনন্দময় মুহূর্ত অথবা প্রেমিক-প্রেমিকার নিকট বন্ধন। শুধু একটি কাঠের টুকরো, তাতে অতিরিক্ত কোনো সংযোজন ছাড়া হয়ে ওঠে একলা বক অথবা প্রতিবাদী বজ্রমুষ্টি।

প্রবাসের নবীন ভাস্কর রাশার দ্বিতীয় একক প্রদর্শনী হয়ে গেল ১৪ ও ১৫ অক্টোবর, নিউইয়র্কের কুইন্সে। ৮০টির মতো ছোট-বড় নানা রকমের ভাস্কর্য এই প্রদর্শনীতে স্থান পায়। সহজেই সবার নজর কেড়ে নেয় ‘যশোর রোড’ নামের একটি প্রশস্ত শিল্পকর্ম। ১৯৭১ সালে মার্কিন কবি অ্যালেন গিনসবার্গ পশ্চিম বাংলার উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় গ্রহণে আগমনরত বাঙালিদের দেখার পর তাঁর দীর্ঘ কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ লেখেন। এই শিল্পকর্মে রাশা মার্কিন কবির অনুভূতিকে নতুন ভাষা দিয়েছেন। এক টুকরো কাঠের ওপর সারিবদ্ধ উদ্বাস্তুদের লাইন, তারা ছুটছে আশ্রয়ের সন্ধানে। এ ছাড়া একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের কয়েকটি মুহূর্ত রাশার কাঠ খোদাইয়ের কাজে মূর্ত হয়ে উঠেছে।

রাশা জানান, শিল্পকর্মের জন্য অধিকাংশ রসদ তিনি সংগ্রহ করেছেন আশপাশের কোনো বাগান, ভেঙে পড়া গাছ অথবা কাছের-দূরের পার্ক থেকে। অনেক সময় সামান্য একটি গাছের ডাল অবিকল ব্যবহার করেছেন কোনো মূর্তি নির্মাণ করতে। কখনো কখনো দুই বা তিনটি ডালকে জোড়া দিতে হয়েছে। রাশা সহাস্যে বলেন, আজকাল অনেকেই বাসায় বেড়াতে এলে ফুল বা মিষ্টি আনার বদলে এক টুকরো শুকনো গাছের ডাল বা গুঁড়ি নিয়ে আসে।

শনিবার প্রদর্শনীটি উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান। দুই দিনই প্রচুর দর্শক প্রদর্শনীটি দেখতে আসেন। খুব অল্প দাম ধার্য করায় প্রদর্শনী শেষ হওয়ার আগেই প্রায় সব শিল্পকর্ম বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানান রাশা।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন