বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হওয়ার পেছনে তিনটি মূল কারণ গবেষকেরা চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হলো, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধের দোকান থেকে কিনে ছোটখাটো রোগ সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ, হাসপাতালে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হওয়া ও প্রাণিজ খাদ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার প্রবেশ।

গবেষকেরা বলছেন, এক হাজার রোগীর মধ্যে ৯ শতাংশের শরীরে নিউমোনিয়ায় ব্যবহৃত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করেনি। আবার নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশের শরীরে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করেনি। পরে বয়সভেদে উপসর্গ ধরে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়েছেন।

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য কয়েকটি হাসপাতালের বেসিন, পানি, শয্যার চাদর ও দেয়াল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব ব্যাকটেরিয়া কোনোভাবে রোগীর দেহে প্রবেশ করে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর করে তুলছে।

অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় রোগীদের শরীরে ব্যাকটেরিয়া দীর্ঘ মেয়াদে থেকে যাচ্ছে। এতে নতুন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়ে যাচ্ছে চিকিৎসার ব্যয়। সুস্থ হতে সময়ও বেশি লাগছে। গবেষকেরা বলছেন, এক হাজার রোগীর মধ্যে ৯ শতাংশের শরীরে নিউমোনিয়ায় ব্যবহৃত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই কাজ করেনি। আবার নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশের শরীরে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করেনি। পরে বয়সভেদে উপসর্গ ধরে চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়েছেন।

ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যত কমে যাবে, জীবাণুর সংক্রমণ তত বেশি বাড়বে। তাই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও সেবন করা যাবে না। এ ছাড়া হাসপাতালে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ওয়াজির আহমেদ, গবেষক দলের সদস্য চিকিৎসক

গবেষণায় বলা হয়, নগরের আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, হালিশহর ও বাকলিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর রোগী পাওয়া গেছে। পাশাপাশি উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, পটিয়া, হাটহাজারী ও চন্দনাইশ এলাকায়ও অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর রোগীর সংখ্যা বেশি। কারণ, এসব এলাকায় ওষুধ বিক্রির (ফার্মেসি) সংখ্যা তুলনামূলক বেশি এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা হচ্ছে।

গবেষক দলের সদস্য চিকিৎসক ওয়াজির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে গেলে মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করলে চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। এতে অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বর্তমানে একটি ভয়ংকর স্বাস্থ্য সমস্যা। ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা যত কমে যাবে, জীবাণুর সংক্রমণ তত বেশি বাড়বে। তাই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও সেবন করা যাবে না। এ ছাড়া হাসপাতালে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণায় তথ্য-উপাত্ত নেওয়া এক হাজার রোগীর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নারী। রোগীদের ৪৮ ভাগের বয়সই ১৫ বছরের নিচে। বাকিদের মধ্যে ২০ শতাংশ ৩০ বছরের নিচে। আর বাকি ৩২ ভাগ ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে। এসব রোগীর ৪৭ শতাংশই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেয়। বাকিরা ঘরে থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। এক হাজারের মধ্যে নবজাতক যেমন আছে, তেমনি ৪০ বছর বয়সের রোগীও আছেন। মায়ের শরীর থেকে কিছু নবজাতকের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করেছে। আবার কিছু নবজাতক হাসপাতালে জন্মেছে। হাসপাতাল থেকেও নবজাতকের শরীরে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করেছে। আবার কিছু রোগী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে এ সমস্যায় পড়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, প্রথমে মা, শিশু ও জেনারেল হাসপাতাল এবং শেভরন ডায়াগনস্টিকে আসা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক হাজার রোগীর নমুনা ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ওষুধ ক্রয় ও রোগীর ইতিহাস নেওয়া হয়। পরে তাদের নমুনা থেকে ‘ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া ব্যাকটেরিয়া’ শনাক্ত করা হয়। এরপর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে ও চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহার করা হয় এমন ১৬টি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হয়। পিসিআর, জিন সিকোয়েন্স ও বায়োইনফরমেটিকস পদ্ধতির মাধ্যমে অকার্যকারিতার জন্য কোন জিন দায়ী, তা বের করা হয়।

গবেষণায় তথ্য-উপাত্ত নেওয়া এক হাজার রোগীর মধ্যে ৫৭ শতাংশ নারী। রোগীদের ৪৮ ভাগের বয়সই ১৫ বছরের নিচে। বাকিদের মধ্যে ২০ শতাংশ ৩০ বছরের নিচে। আর বাকি ৩২ ভাগ ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে।

গবেষণাটির প্রকল্প পরিচালক আদনান মান্নান বলেন, এক হাজার রোগীর সর্বশেষ অবস্থার তথ্য নেওয়া হবে আগামী জানুয়ারিতে। এটি গবেষণার আরেকটি অংশ। প্রথম ধাপে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে।

এই গবেষক আরও বলেন, অনেক সময় এক-দুদিন পর অ্যান্টিবায়োটিক সেবন বন্ধ করে দেয় রোগীরা। এর মাধ্যমে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির কিছু নিয়ম থাকলেও তা সব সময় মানা হচ্ছে না, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা উচিত।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন