নিকট আত্মীয়ের বাইরে যাচাই সাপেক্ষে কিডনি দেওয়া যাবে

বিজ্ঞাপন
default-image

বর্তমানে নির্ধারিত নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞার বাইরে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত কোনো ব্যক্তি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার (আবেগী দাতা) হিসেবে কাউকে কিডনি দিতে পারবেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের এ সংক্রান্ত ধারা ও বিধান ছয় মাসের মধ্যে সংশোধন করতে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।

একবার কিডনি প্রতিস্থাপনের পর দ্বিতীয় দফায় সন্তানের কিডনি প্রতিস্থাপন নিয়ে আইনি জটিলতা সূত্রে ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা জোহরা ১৯৯৯ সালের আইনের তিনটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০১৭ সালে ওই রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালত রুল দেন। ১৯৯৯ সালের আইন ২০১৮ সালে সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে রিট আবেদনকারীর করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক রুল হয়। এই রুল নিষ্পত্তি করে আজ রায় দেওয়া হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাশনা ইমাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ। রিটে ব্যাখ্যাদানকারী হিসেবে পক্ষভুক্ত আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহীনুজ্জামান শাহীন।

রায়ের বিষয়ে আইনজীবী রাশনা ইমাম প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে পরিচিত এবং সম্পর্ক আছে-এমন ব্যক্তি চাইলে প্রত্যয়ন বোর্ডের যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনার হিসেবে কিডনিসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন বলে রায়ে এসেছে। ছয় মাসের মধ্যে আইন ও বিধিমালা সংশোধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নিকট আত্মীয়ের বাইরে কিডনি দানের সুযোগ তৈরি হলো। তবে অপরিচিত বা সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তি কিডনি দিতে পারবে না।

আইন অনুসারে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেনা-বেচা নিষিদ্ধ উল্লেখ করে রাশনা ইমাম বলেন, কিডনি দেওয়ার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রত্যয়ন বোর্ডের জন্য নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন আদালত। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে ইমোশনাল ডোনেশন হচ্ছে কি না, তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে একটি প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। প্রত্যয়ন বোর্ড দাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক, পরিচয় যাচাই করবে। কোন পরিস্থিতিতে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা থাকতে হবে। দাতা স্বেচ্ছায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান করছেন কি না, অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, দাতা মানসিকভাবে সুস্থ বা মাদকাসক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দাতা-গ্রহীতার দেওয়া তথ্যে বৈপরীত্য আছে কি না, তাও নিশ্চিত করতে হবে বলে নীতিমালায় এসেছে।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, নিকট আত্মীয় পাওয়া না গেলে ইমোশনাল ডোনারের সঙ্গে গ্রহীতার পারস্পরিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্পর্ক প্রত্যয়ন বোর্ডের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে হবে বলে রায়ে এসেছে। দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের সপক্ষে দালিলিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করে তা নথিভুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, অর্থ লেনদেনের কোনো প্রতিশ্রুতি আছে কি না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আছে কি না এবং দাতা-গ্রহীতার তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদনও প্রত্যয়ন বোর্ডকে বিচার বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন