default-image

কিশোরগঞ্জের হাওর-অধ্যুষিত ভাঙনকবলিত উপজেলা নিকলী। একসময় বোরো ফসলই ছিল এ অঞ্চলের লোকজনের জীবিকা অর্জনের একমাত্র উপায়। কিন্তু ধান চাষে তেমন লাভ না হওয়ায় কৃষকেরা মরিচ আবাদে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। এ ফসলই তাঁদের ভাগ্যবদলের পথ দেখিয়েছে। মরিচ বিক্রির বাড়তি অর্থে জীবনে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। অনেকে সংসারের খরচ মিটিয়ে সঞ্চয়ও করতে পারছেন।
গত শনিবার উপজেলার গুরুই, জারইতলা, ছাতিরচর, সিংপুর, কারপাশা, দামপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেত থেকে পাকা লাল মরিচ তোলা হচ্ছে। এ কাজে চাষিদের সঙ্গে আছে নারী ও শিশুরাও। কেউ ২০ কেজি বস্তাপ্রতি ৫০ টাকায়, কেউ আবার প্রতি মণে ৫ কেজি মরিচের বিনিময়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া বাড়ির উঠান, নদীর তীরসহ অনেক জায়গায় এখন চলছে মরিচ শুকানোর ধুম। আবার কেউ কেউ বাজারে শুকনা মরিচ বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি খেতে মরিচ রোপণ করা হয়। চার মাসের মধ্যে ফলন আসে। এ মাসের শুরু থেকেই লাল মরিচ তোলা শুরু হয়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে সব ফসল ঘরে উঠে যাবে। দেশি জাতের বালুজুড়ি মরিচের আবাদ হয়েছে বেশি। এ মরিচ মাঝারি আকৃতির। পাকার পর হয় লাল টুকটুকে। এবার ফলন ভালো এবং বাজারে দামও ভালো। লাভ হওয়ায় মরিচ চাষে চাষিরা দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চাহিদা থাকায় বাজারে সহজেই মরিচ বিক্রি করা যায়। অনেক সময় পাইকারেরা বাড়িতে এসেও মরিচ কেনেন।
কথা হয় গুরুই এলাকার কৃষক ওমর ফারুকের সঙ্গে। এবার তিনি ২৫ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চার মণ লাল মরিচ বিক্রি করে পেয়েছি ২২ হাজার টাকা। এ ছাড়া একই খেত থেকে ৮ মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি করে ৮ হাজার টাকা পেয়েছি। ধানের চেয়ে মরিচ আবাদ লাভজনক।’
পাঁচরুখি এলাকার কৃষক ছমেদ মিয়া বলেন, তিনি ১১ শতাংশ জমি থেকে লাল মরিচ পেয়েছেন তিন মণের মতো। কেজিপ্রতি ১২০ টাকা ধরে বিক্রি করে পেয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এতে তাঁর খরচ হয়েছিল সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, এ মৌসুমে নিকলীতে ২৮০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে চাষ হয়েছে ৩২০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে কৃষক মরিচ চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন