৪৬ দিন ধরে টানা হরতাল-অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে নিকলীর সড়ক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার কয়েক শ মৎস্য খামারি। উৎপাদিত মাছ বিক্রি করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। স্থানীয় বাজারে কম দামে মাছ বিক্রি করতে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরাও।
উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিকলীতে ছোট-বড় ৪৮৯টি মৎস্য খামার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিমালিকানার ৪৮১টি ও সরকারি ৮টি খামার। খামারগুলোতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, থাইপুঁটি, মাগুর, শিং, পাঙাশ ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। খামারগুলো থেকে বছরে ৯৮৭ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়।
খামারগুলোতে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে মাছের চাষ শুরু হয়। উৎপাদিত মাছ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিক্রি করা হয়ে থাকে। এপ্রিল থেকে খামারগুলো পুনরায় মাছ চাষের জন্য তৈরি করতে হয়। এসব খামারের মাছ ঢাকার কারওয়ান বাজার, ঠাটারী বাজার, যাত্রাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড ও গাজীপুরের বোর্ডবাজারের আড়তগুলোতে বিক্রির জন্য নেওয়া হয়। গত ৪৬ দিন হরতাল-অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে নিকলীর যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় বন্ধ থাকায় মাছচাষিরা খামারের মাছ বিক্রি করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক খামারি স্থানীয় আড়ত ও বাজারগুলোতে কম দামে মাছ বিক্রি করছেন। খামারে চাষ করা মাছ বর্তমানে নিকলীর আড়ত ও স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ওই মাছ ঢাকার বাজারগুলোতে পাঠাতে পারলে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করা যেত।
নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ষাইটদার গ্রামের খামারি সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘খামার থেকে এখনই মাছ ধরে বিক্রি করার সময়। পরিবহনের অভাবে আমরা মাছ বিক্রি করতে পারছি না। বিপুল পরিমাণ মাছ স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করা সম্ভব না।’
জারুইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করছি। মাছ বিক্রি করে জানুয়ারিতে ঋণের টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। অবরোধ-হরতাল থাকার কারণে ঢাকায় মাছ পাঠাতে পারছি না। এতে করে খামারে নতুন করে মাছ চাষের প্রস্তুতি নিতে পারছি না। এখন ব্যাংকের ঋণের টাকা কেমনে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় ভুগছি।’
নিকলী উপজেলার নতুন বাজারের মোস্তাক মিয়া, কারার আরিফ, নিরঞ্জন দাস, ফুরমান মিয়া, গোপাল দাসসহ কয়েকজন আড়তের মালিক বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে এ বছরের মতো এমন সংকটে কোনো দিন পড়তে হয়নি। একই কথা জানান আলম মিয়া, নয়ন বর্মণ, বাচ্চু মিয়া, আক্তার হোসেন, পরিমল বর্মণ, আনার মিয়াসহ আরও কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী।
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করতে না পারলে খামারের মালিকেরা আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন