বঙ্গোপসাগরের তিন নদ-নদীর মোহনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় সাতজনের লাশ উদ্ধার হলেও এক দিন পরও নিখোঁজ কিশোর মুসার সন্ধান পাওয়া যায়নি। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মুসার সন্ধানে তার বাবা আবদুল করিম মৃধা, চাচা হাসান মৃধাসহ স্বজনেরা ট্রলার নিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন। কোস্টগার্ড সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন।
গতকাল শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থলে আবদুল করিম মৃধা কেবল কাঁদছিলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘পোলাটা চোখের সামনে দিয়া পানিতে তলাইয়্যা গেল। আমারে জড়াইয়্যা ধইর্যার বাপ বাপ কইর্যাস চিৎকার করছিল। কিন্তু আমি অরে ধইর্যার রাখতে পারলাম না। আহা রে, আমার বাবায় কত কষ্টই না পাইছে!’
গত শুক্রবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর বন্দর থেকে এফবি খাদিজা নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনার বামনা উপজেলার চলাভাঙ্গা পীরের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে যোগদানের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ট্রলারটি কুয়াকাটা হয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পায়রা-বিষখালী নদী ও বলেশ্বর নদের মোহনায় এসে আকস্মিক ডুবে যায়। এতে নিখোঁজ সাতজনের লাশ শুক্রবার উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মুসার সন্ধান মেলেনি। এই ট্রলারে বাবা আবদুল করিম মৃধা ও চাচা হাসান মৃধার সঙ্গে মুসাও (১৫) ছিল। মুসা কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।
হাসান মৃধা বলেন, ‘শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে মুসার সন্ধানে ট্রলার নিয়ে নদীতে নেমেছি। গত ২৪ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরের তিন নদীর মোহনা চষে বেড়িয়েছি। কিন্তু কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আশপাশের তিন নদীতে মাছ ধরা জেলেদের কাছে আমাদের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে মুসার সন্ধান দিতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুসার সন্ধান চেয়ে নদীতে মাইকিং করে প্রচার চালানো হচ্ছে।’
কোস্টগার্ডের তালতলীর নিদ্রা-সখিনা ক্যাম্পের কমান্ডার জীবেশ কান্তি ঢালি বলেন, মোহনাসহ আশপাশ নদীতে কোস্টগার্ডের টহল অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজ মুসার সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এ টহল অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন