তাঁদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে ঢাকায় থাকায় নাওড়া রাজাপুর এলাকার নিজ বাড়িতে শুধু স্বামী–স্ত্রীই থাকতেন। ছেলেমেয়েরা প্রতিদিনই মুঠোফোনে তাঁদের সঙ্গে যোগযোগ রাখতেন। কিন্তু গত ২৯ জুন রাতে ছেলেমেয়েরা যোগাযোগ করলে তাঁরা কেউই ওই দিন ফোন ধরেননি। পরদিন ৩০ জুন সারা দিনও বাবা–মায়ের সঙ্গে সন্তানেরা যোগাযোগ করতে পারেননি।

কামরুন্নাহারের বড় বোন শিরিন বেগম বলেন, আজ সকালে তাঁদের ছেলে জাকারিয়া বাবু পাশের বাড়ির শামসুল হককে বিষয়টি জানালে তিনি ঘরের জানালা দিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় কারুন্নাহার ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন।

এ সময় প্রতিবেশী শামসুল হক জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন করে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে শাহরাস্তি থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে তারা ওই বাড়ির ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল আমিনের লাশ উদ্ধার করে। ছাদে দীর্ঘ সময় লাশ পড়ে থাকায় লাশে পচন ধরে গিয়েছিল।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, দুজনের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর কোনো ধরনের প্রমাণ রাখেনি দুর্বৃত্তরা। ছাদের পাশে থাকা গাছ দিয়ে তারা পালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নুরুলের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আহত কামরুন্নাহারকে তাৎক্ষণিকভাবে শাহরাস্তি উপজেলা কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে পিবিআই, সিআইডি ও গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের তিনটি ইউনিট ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় বলেন, ‘নুরুল আমিনের মাথায় ও মুখে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং গলায় দাগ রয়েছে। ক্ষত জায়গায় পচন ধরেছে। এতে আমাদের মনে হচ্ছে ঘটনাটি দু-তিন দিন আগে ঘটেছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন