লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায় খুনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নিন্দা জানিয়েছে। গতকাল শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ও ইইউর পৃথক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
অভিজিৎকে হত্যার এই ঘটনা সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, কাপুরুষোচিত এই হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপরই নয়, বরং তা বাংলাদেশের সংবিধানের শাশ্বত নীতির ওপর। সংবিধানে মুক্ত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় আলোচনার গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখা হয়েছে।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের পৃথক এক বিবৃতিতে অভিজিতের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে অভিজিতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদু অভিজিতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের শোক প্রকাশ: অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন গতকাল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি মর্মাহত হয়েছেন।
সিএফআইয়ের বিবৃতি: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক শিক্ষা, পরামর্শ ও গবেষণামূলক সংগঠন দ্য সেন্টার ফর ইনকোয়ারি (সিএফআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, অভিজিৎ ছিলেন তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি ছিলেন যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক ও বাকস্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। সিএফআইয়ের সাময়িকী ফ্রি ইনকোয়ারি ও ফ্রি থিংকিং ব্লগের লেখক ছিলেন অভিজিৎ। তাঁকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সিএফআই শোকে মুহ্যমান।
গত বৃহস্পতিবার রাতে অমর একুশের গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অভিজিৎ নিহত হন। এ সময় তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ গুরুতর আহত হন।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন