ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণকাজ নিম্নমানের বালু-পাথর দিয়ে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া কাজের গতি ধীর। তাই বর্ষার আগে কাজ শেষ না হলে গত বছরের মতো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় জনগণ।
গত বছর বর্ষায় বাঁধ ভেঙে উপজেলার চরমাদ্রাজ ও আসলামপুর ইউনিয়নের প্রায় সাত হাজার মানুষ লবণ পানিতে প্লাবিত হয়। কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে ফসল আবাদ হচ্ছে না।
কাজের মান সঠিক হচ্ছে কি না এবং কাজের অগ্রগতি দেখার জন্য গতকাল শুক্রবার পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চরফ্যাশনে আসেন। এ সময় মন্ত্রী দ্রুত ও সঠিক মান নিশ্চিত করে মেঘনার তীর সংরক্ষণকাজ করার আহ্বান জানান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ (পাউবো) সূত্র জানান, উপজেলার আসলামপুর বেতুয়া থেকে চরমাদ্রাজ সামরাজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার মেঘনাতীরে গত বছরের ১৩ নভেম্বর ব্লক ও জিওটেক্সটাইল বস্তা স্থাপনকাজ এবং ৫ ফেব্রুয়ারি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হয়। ওই কাজ জুনে শেষ হওয়ার কথা।
পাউবো আরও জানায়, ব্লক ও জিওটেক্সটাইল বস্তা স্থাপনকাজ শতকরা ৫০ ভাগ এবং বাঁধের কাজ ২০ ভাগ শেষ হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, নিম্নমানের পাথর, বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ হচ্ছে। এক বালতি সিমেন্টের সঙ্গে তিন বালতি বালু ও ছয় বালতি পাথর মেশানোর কথা। কিন্তু এক বালতি সিমেন্টের সঙ্গে নয় বালতি বালু ও পাথর মেশানো হচ্ছে।
আসলামপুর ইউনিয়নের হামিদপুরের আলী আহমেদ রাড়ি বলেন, গত বছর ভাঙন ও প্লাবিত হয়ে তাঁদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নয় একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে পাঁচ লাখ টাকার ফসল। এ বছর যেন তেমন না হয়, সে জন্য কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি। একই দাবি করেন সালাউদ্দিন, মো. আবদুল বারেকসহ শতাধিক লোক। চর আফজালের মো. কবির বলেন, এ বছর খেতে কোনো ফসল আবাদ করতে পারেননি তিনি।
পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আলম বলেন, ব্লক সঠিক নিয়মে নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য টাস্কফোর্স আছে। সঠিক সময়ে ব্লক ও বাঁধের কাজশেষ হবে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন