default-image

সিরিয়াল ভেঙে আগে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিলেন বিএনপির নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এ সময় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িটি ফিরিয়ে লাইনের পেছনে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

আলাল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরিশালে। তিনি বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সাবেক সাংসদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, গাড়িতে তাঁর এক নাতিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছিলেন। নাতি অসুস্থ। স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত গাড়িটি নদী পার করে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি ভেবেছিলেন, ওই নেতা-কর্মীরা ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটা বন্দোবস্ত করেছেন। বিষয়টি জানার পর তিনি গাড়ি সরিয়ে লাইনের পেছনে নিয়ে আসেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে এখন কর্মমুখী মানুষ রাজধানী ঢাকার দিকে রওনা হচ্ছেন। ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মানুষ ও গাড়ির চাপ বেড়েছে। এ অবস্থায় বুধবার দুপুরে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি (ঢাকা মেট্রো চ-৫১-৮৩৯২) সিরিয়াল ভেঙে উল্টো পথে ফেরিঘাটে প্রবেশ করে। গাড়িটি ৫ নম্বর ঘাটে গিয়ে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করে। এ সময় ঘাটে কর্তব্যরত গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান সেখানে যান। তিনি গাড়িটির গতি রোধ করে নিয়ম ভাঙার কারণ জানতে চান। তিনি দেখতে পান, গাড়িটির ভেতরে রয়েছেন বিএনপির নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গাড়িটিকে নিয়ম মেনে ফেরিতে ওঠার জন্য লাইনের পেছনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে ওই বিএনপি নেতা গাড়ি থেকে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদও দেন। এরই মধ্যে ঘাটে গাড়ির সংখ্যা কমে যায়। ফলে মিনিট বিশেকের মধ্যে নিয়ম মেনেই ফেরিতে ওঠে আলালের গাড়িটি।

ওসি বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে এখন ‘ভিআইপি’ হিসেবে পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় ওই বিএনপি নেতার গাড়িটি সিরিয়াল ভেঙে আগে ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। তাঁকেও নিয়ম মেনে ফেরিতে ওঠার অনুরোধ জানিয়ে গাড়িটি লাইনের পেছনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সবাই নিয়ম মেনে চললে দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদফেরত যাত্রী ও যানবাহনের ভোগান্তি কম হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0