নীলফামারীতে কৃষিকাজে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি। কিন্তু সমান কাজ করে তাঁরা পারিশ্রমিক পান একজন পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেকের কম। এতে তাঁরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গত সোমবার দুপুরে জেলা সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একটি খেত থেকে দল বেঁধে আলু তুলছেন শ্রমিকেরা। এঁদের মধ্যে অধিকাংশই নারী শ্রমিক। এ সময় কথা বলে জানা যায়, সেখানে ৪২ জন শ্রমিক কাজ করছেন। এঁদের মধ্যে নারী শ্রমিক ৩২ জন।

মাস্টারপাড়া গ্রামের নারী শ্রমিক তুলো বালা বলেন, ‘হামরা কাম করি ভাত খাই। সকাল থাকি সইন্ধ্যা পর্যন্ত কাম করি হাজিরা পাই ৮০ টাকা। নাশতাও খাওয়ায় না। আলুর নাকি দাম নাই, এই জন্য হামার হাজিরাও কম। হামার সাথে যে পুরুষ মানুষগুলা কাম করেছে, ওমার হাজিরা ২০০ টাকা। কাম তো একে (একই ধরনের)।’ সাবিত্রী রানী বলেন, ‘পুরুষ মানুষ যে কাম করে, হামরাও সেই কাম করি, ওমার আধেক হাজিরাও হামাক দেয় না। কয় কইরলে করো, না কইরলে নাই।’

শ্রমিকেরা যে খেতে কাজ করছিলেন, সেই খেতের মালিক ননি গোপাল রায়। তিনি বলেন, ‘সাড়ে চার বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। খরচ হয়েছে ৪২ হাজার টাকা।  এখান থেকে ট্রাকযোগে নিয়ে যাবেন আলু ব্যবসায়ী। এ জন্য একসঙ্গে ৪২ জন শ্রমিক লাগিয়েছি। যার মধ্যে নারী শ্রমিক ৩২ জন এবং পুরুষ ১০ জন। নারীদের হাজিরা ৮০ টাকা। আর পুরুষ শ্রমিকেরা পাবেন ২০০ টাকা করে।’ মজুরি কমবেশি দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নারীরা শুধু আলু তোলার কাজ করছেন। কিন্তু পুরুষ শ্রমিকেরা আলুর বস্তা টানবেন ও তা ট্রাকে তুলবেন। তাঁদের অনেক ভারী কাজ। এ জন্য তাঁদের মজুরি বেশি।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারী অধিকারসহ নারীদের স্বার্থ রক্ষায় উদয় অঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা কাজ করে। ওই সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলাউদ্দিন আলী বলেন, ‘বিষয়টি অমানবিক। এ নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। এর আগে আমরা মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে এ বিষয়ে সভা-সমাবেশ করেছি, তাতে কাজ হয়নি। পরে নারী শ্রমিকেরা নিজেরাই দিনমজুরি না করে চুক্তিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। তাতে আগের তুলনায় বৈষম্য কিছুটা কমেছে। কিন্তু এই সময়ে কাজ কম থাকায় স্বল্প মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। মজুরিবৈষম্য দূর করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ২০ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আবাদ করা হয়েছে ২২ হাজার ৬০৫ হেক্টরে।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন