নূরুল ইসলাম হত্যার বিচারে বাধা কোথায়?

‘গণতন্ত্রী পার্টির সাবেক সভাপতি নূরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে ইসলাম তমোহর হত্যার বিচারের কাজ শুরু হওয়া তো দূরে থাক, এখন পর্যন্ত ওই হত্যার তদন্ত পর্যন্ত হয়নি। সরকারের তিনজন প্রভাবশালী মন্ত্রী গত পাঁচ বছরে এই হত্যাকে পরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করে শাস্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরও আমার বাবা ও ভাইয়ের হত্যার বিচারে কোনো অগ্রগতি নেই। সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও এই বিচারে বাধাটা কোথায়?’
গতকাল বৃহস্পতিবার নূরুল ইসলাম হত্যার ছয় বছর উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এই শ্রমিকনেতার মেয়ে মৌটুসি ইসলাম এভাবেই তাঁর আক্ষেপভরা প্রশ্ন তুলে ধরলেন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সভায় নূরুল ইসলামের স্ত্রী কবি ও সাবেক সাংসদ রুবী রহমান বলেন, ‘আমার কাছে অনেকে এসে বলে, তারা নূরুল ইসলামের আদর্শের অনুসারী। আমি তাদের এই কথায় ভরসা দিতে পারি না। কারণ, দেশের জন্য, শ্রমজীবী মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে নূরুল ইসলাম মারা গেলেন। এখন তাঁর আদর্শ ধারণ করতে গেলেও সেও যদি মারা যায়, সেই ভয় জাগে।’
স্মরণসভার প্রধান অতিথি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, নূরুল ইসলামের মতো একজন নিঃস্বার্থ সংগ্রামীকে হত্যা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর হত্যাকারীদের বিচার হয়নি, যা দুঃখজনক। দেশের বিবেকবান মানুষ এ হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারে না।
নূরুল ইসলামের হাতে গড়া শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী ১৪ দলের উদ্দেশে বলেন, ‘নূরুল ইসলাম হত্যার বিচার না করলে আমরা কিন্তু আপনাদের ছাড়ব না। শ্রমিকেরা এর জবাব দেবেন।’
শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ দেশের প্রতিটি শ্রমিক আন্দোলনে নূরুল ইসলাম হত্যার বিচারের দাবিটি যুক্ত করার জন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের অন্য নেতারা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া গণতন্ত্রী পার্টির পক্ষ থেকে ২০০৮ সালের ২ ডিসেম্বর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে নিহত নূরুল ইসলাম স্মরণে এক মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে গণতন্ত্রী পার্টির নেতারা বলেন, নূরুল ইসলাম হত্যার ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশ এবং সিআইডি থেকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এই তদন্ত সঠিক নয় উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করে আবারও তদন্ত করার দাবি জানান।