default-image

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের ডাকা হরতালের বিরুদ্ধে নগরের ২৩টি স্থানে নিয়মিত অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ। তবে এ কর্মসূচিতে নেতা–কর্মীদের তেমন দেখা যায় না। কোথাও কোথাও সমাবেশ হলেও তাতে উপস্থিত থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন নেতা–কর্মী। বেশির ভাগ সময় দেশাত্মবোধক গান ও বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ প্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে হরতালবিরোধী কর্মসূচি।
চট্টগ্রাম নগরের ২ নম্বর গেট। এই এলাকার বিপ্লব উদ্যানের সামনে টাঙানো হয়েছে শামিয়ানা। লাগানো হয়েছে মাইক। এখানে হরতালবিরোধী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শুলকবহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিপ্লব উদ্যানের সামনে গিয়ে দেখা যায়, শামিয়ানার ভেতর ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে বেশ কিছু চেয়ার। তখনো নেতা–কর্মীরা কেউ আসেননি। ফাঁকা চেয়ারগুলোয় বসে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। নেতা–কর্মীরা না এলেও মাইকে বাজছিল দেশাত্মবোধক গান। অবশ্য এর আগের দিন সোমবার বেলা একটার দিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সাত–আটজন নেতা–কর্মীকে শামিয়ানার নিচে বসে থাকতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা। চকবাজার অলি খাঁ মসজিদের মোড়ের পাশের যাত্রীছাউনি। যাত্রী নেই। সেখানে বসে আছেন আওয়ামী লীগের ১৩ জন নেতা–কর্মী। দেয়ালে টাঙানো হয়েছে চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানার। যাত্রীছাউনির বাইরে পাশে অবস্থান করছিলেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের আরও সাত–আটজন নেতা–কর্মী। চলছিল হরতালবিরোধী সমাবেশ। মাইক্রোফোনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন দলের নেতা–কর্মীরা। যাত্রীছাউনির ভেতরে ও পাশে অল্পসংখ্যক নেতা–কর্মী থাকলেও সামনের অংশ খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সমাবেশ পরিচালনা করছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোজাহেরুল ইসলাম চৌধুরী। সমাবেশ পরিচালনার একফাঁকে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত এই মোড়ে দলের পক্ষ থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গণসংগীত, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের প্রচার ও বিক্ষোভ সমাবেশ। আওয়ামী লীগের সমাবেশের পর দুপুরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুর ১২টায় নগরের আন্দরকিল্লা মোড়ে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী কর্মসূচিতে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। এখানকার ব্যাংক এশিয়ার সামনের চত্বরে রাখা হয়েছে ২৫টির মতো চেয়ার। পেছনে টাঙানো হয়েছে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির ব্যানার। সেখানে অবস্থান করছিলেন ১২-১৩ জন নেতা–কর্মী। কথা হয় আন্দরকিল্লা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, নগরের আন্দরকিল্লা, জামালখান, বকশির হাট ও দেওয়ানবাজার ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা প্রতিদিন এখানে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত অবস্থান করেন। হরতালবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে কোনো দিন বিক্ষোভ সমাবেশ, কোনো দিন বিক্ষোভ মিছিল আবার কোনো দিন অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। নেতা–কর্মীদের কম উপস্থিতি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে যখন শুরু করি, তখন প্রচুর নেতা–কর্মী থাকেন। আপনারা আসছেন শেষের দিকে। তখন নেতা–কর্মীরা চত্বর ছাড়তে শুরু করেন। কেউ কেউ মহানগর কার্যালয়ে চলে যান।’
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের হরতালের প্রতিবাদে নগরের দারুল ফজল মার্কেট চত্বর, অক্সিজেন মোড়, মুরাদপুর, কাঠগড়, কালামিয়া বাজার, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, চকবাজার, বহদ্দারহাট, ইপিজেড, দেওয়ানহাট মোড়, বারিক বিল্ডিং মোড়, বড়পুল মোড়, ওয়াসার মোড়, বটতলীর মোড়, অলংকার চত্বর, বাদামতলী মোড়, বন্দরটিলা, কেইপিজেড, রেলক্রসিং, সিটি গেট চত্বর, নয়াবাজার বিশ্বরোড ও কর্নেলহাটে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে মহানগর আওয়ামী লীগ।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন